তালাকপ্রাপ্তার খোরপোষের অর্থ চরফ্যাশনের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের পকেটে

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি ॥

চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রাসেলের বিরুদ্ধে তালাক প্রাপ্ত গৃহবধূর খোরপোষের অর্ধেক টাকা আত্মসাত করার অভিযোগে গৃহবধূ নুপুর চরফ্যাশন থানায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের চরযমুনা গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের শাহজল দালালের কন্যা নুপুর বেগমের সাথে আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেনের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের সাংসারিক জীবনে ৯ ও ৬ বছরের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সংসারের খুঁটি-নাটি বিষয়ে বিবাধের এক পর্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে নুপুর চরফ্যাশন থানায় মামলা দায়ের করেন।

থানা থেকে গৃহবধূর স্বামী আনোয়ার হোসেনকে মুক্ত করতে এবং নুপুরের পরিবারের সাথে কথা বলে উভয় পক্ষের ফয়সালার দায়িত্ব নেন আবদুল্লাহপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন রাসেল।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল ও আবদুল্লাপুর সাবেক ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিনসহ মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা গৃহবধূ নুপুরের ভরণ পোষণ বাবদ নির্ধারণ করেন। নুপুরের স্বামী আনোয়ারের কাছ থেকে জসিমের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তার কাছে পৌঁছার সাথে সাথে ওই টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা নুপুরের বোন নুরজাহানের আমিনাবাদ এলাকার বাড়ীতে গিয়ে নুরজাহানকে দিয়ে নুপুরের কাছ থেকে জোরপূর্বক ডিভোর্স লেটারের সই স্বাক্ষর নেয়া হয়।

নুপুর বাকী টাকা চাইতে গেলে তাকে হুমকি ধমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।

নুপুর জানান, তাকে মীমাংসার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কিন্তু আমার টাকা আত্মসাত করার দায়িত্ব তো দেয়া হয়নি, কেন করেছে। আমি বাকী ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার জন্যে চরফ্যাশন থানায় অভিযোগ করেছি।

নুপুরের বোন নুরজাহান বলেন, আমি ১ লাখ ২০হাজার টাকা পাইনি, মাত্র ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

এই ব্যাপারে ইসমাইল হোসেন রাসেল বলেন,তালাক হয়েছে ভরণপোষণের জন্যে ৭০ হাজার টাকা ধার্য ছিল। মেয়ের পরিবারকে ৬৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। নিকাহ রেজিস্টার ও স্থানীয় চৌকিদার খরচ বাবদ ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মনির হোসেন মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি এস আই নাজমুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এস আই নাজমুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Sharing is caring!