তজুমদ্দিনে কোটি টাকার ব্রীজ নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:২২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২০

তজুমদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা ॥

ভোলার তজুমদ্দিনে প্রায় কোটি টাকার গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২২ মিটার সিটু ফাইল স্থাপনের নিয়ম থাকলেও কাজের ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। রাতের আধারে উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশ উপেক্ষা করে ১২ থেকে ১৫ মিটার ফাইল নির্মাণ করেন ঠিকাদার। এ বিষয়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ভোলা-৩ আসনের সাংসদ এবং প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তর বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজে ১২টি সিটু ফাইল নির্মাণের কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনির আহমেদের নামে কার্যাদেশ হলেও গত ১৯ মার্চ নির্মাণ কাজ শুরু করেন ভোলার শান্ত এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মোরশেদ আলম চাঁন নামের এক ঠিকাদার। ২৭ মার্চ পর্যন্ত ৭টি সিটু ফাইল স্থাপনের কাজ করে।

এরপর দেশে করোনা দূর্যোগের কারণে ২৮ মার্চ উপজেলা প্রকৌশলী কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিছু দিন কাজ বন্ধ রেখে রাতের আধারে গত ৬ ও ৭ এপ্রিল ৫টি সিটু ফাইলের কাজ সম্পন্ন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তদারকী কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগে সিটু ফাইল নির্মাণে ২২ মিটার করে লেন্থ দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ১০-১২ মিটার লেন্থ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে পূর্বে নির্মিত ৭টি সিটু ফাইলেও যথাযথ দৈর্ঘ্য অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়াও ব্রিজের নির্মাণ কাজে ৬০ গ্রেড রড, এলসি পাথর, লালবালি ও ১নং ইট বা খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও তা  ব্যবহার করা হয়নি নির্মাণ কাজে। সরজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বাংলা পাথর, লোকাল রড ও সাদা বালি সাইডে পড়ে আছে।

পরে ব্রীজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে ২২ এপ্রিল কাজও বন্ধ করে দেয় স্থানীয়রা। ওয়ার্ক এ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ হোসেন জানান, ৮টি সিটু ফাইল স্থাপনের সময় পর্যন্ত তিনি সাইডে কাজ তদারকি করেছেন। পরে কাজ বন্ধের নির্দেশনা পেয়ে তিনি আর সাইডে যাননি। তবে  সিটু ফাইলের লেন্থ ২০মিটার করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। অপরদিকে এ বিষয়ে কাজের তদারকি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। ১২টি সিটু ফাইল নির্মাণের সময় তিনি সাইডে উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু খোজ নিয়ে জানা গেছে, সিটু ফাইল নির্মাণকালী সময়ে তদারকি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামকে সাইডে দেখা যায়নি। ওয়ার্ক এ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ হোসেনের মাধ্যমে ৭টি সিটু ফাইলের কাজ বাস্তবায়ণ হয়। কাজ বন্ধের নির্দেশনা থাকা সত্তেও ঠিকাদার তদারকি কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে বাকি ৫টি সিটু ফাইলের কাজ সরকারি নির্দেশনা না মেনে ব্যাপক অনিয়ম করেই সম্পন্ন করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিরাজ উদ্দিন সিরাজ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ভোলা-৩ আসনের সাংসদ এবং প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় সাংসদ নুরুন্নবী চৌধূরী শাওন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ব্রীজের নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে ঠিকাদার মোরশেদ আলম চাঁনকে পাওয়া যায়নি।

সাইডে উপস্থিত কেউ এবিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রীজ পুনঃনির্মাণ/পুনঃবাসন প্রকল্পের’ আওতায় অত্র উপজেলায় প্যাকেজ নং ওইজচ/ইযড়/ঞধুঁ/ইৎম-০৪, ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ ড়ভ ১৫.০০স ষড়হম জঈঈ এরৎফবৎ ইৎরফমব ড়হ অৎধষরধ এচঝ-ঞযধশঁৎ ইধুধৎ জড়ধফ, ওউ ঘড় ৫০৯৯১৪০১২ কাজটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়। অনলাইন টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বনিন্ম দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনির আহমেদ।

প্যাকেজ এর প্রাক্কলিত মূল্য ৯৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত ২২ মার্চ কাজ শুরু করে। কাজ শুরু করার সময় দেখা যায়, চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনির আহমেদের নামে কার্যাদেশ হলেও ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছেনা। সাব কন্টাক নিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করছেন ভোলার মোরশেদ আলম চাঁন নামের অপর এক ঠিকাদার।

পরে, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার করোনা দূর্যোগের কারণে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দেন। কিন্তু ঠিকাদার কাজ বন্ধ না করেই সংশ্লিষ্ট তদারকী কর্মকর্তার অনুপস্থিতেও কাজ চালিয়ে যান। এই সুযোগ নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে ঠিকাদার।  এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ জগলুল ফারুক বলেন, করোনা দুর্যোগের কারণে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজ সাব-কন্টাক দেয়ার কোন নিয়ম নেই। অভিযোগ পেয়েছি দ্রুত এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।