ডেকোরেটর ব্যবসায়ীদের দুর্দিন : রৌমারীতে করোনায় অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় বিপাকে মালিক-কর্মচারী 

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০
মাসুদ পারভেজ, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ॥বর্তমান করোনা ভাইরাসের বিষাদময় পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে দেশের প্রায় সকল প্রকার সরকারি, বে-সরকারী সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এতে পেশা  টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সাউন্ড সিস্টেম ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা। ১১ জুলাই (শনিবার) উপজেলার বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকান খোলা থাকলেও নেই কাজের ব্যস্ততা। কাজ বিহীন সকাল আর সন্ধ্যা কাটে। দিন শেষে হিসাবের খাতা শূন্য। একদিকে বন্ধ রয়েছে আয়, অন্যদিকে বাড়ছে ব্যয়। শেষ হয়ে যাচ্ছে জমানো সঞ্চয়। ফলে
সংকটময় দিন পার করছেন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার। উপজেলায় প্রায় অর্ধ শতাধিক সাউন্ড সিস্টেম ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ীসহ
শতাধিক শ্রমিক এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রোজগার না থাকায় অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছেন তারা। সরকারিভাবে একবার ত্রাণ দিলেও নামমাত্র পায়নি এই ব্যবসায়ীরা। তাই সরকারি ভাবে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন উপজেলার সাউন্ড সিস্টেম ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা।
উপজেলার রৌমারী বাজারের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ী ওহাব ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমের তৈওফিকুল ইসলাম, মুজাহিদ মাইক সার্ভিস মাহবুর
রহমান মামুন , ডেকোরেটর আলী হোসেন, চাচা ভাতিজা ডেকোরেটর মুকুল মিয়া, চরশৌলমারী সাথী সাউন্ড ও ডেকোরেটর সোহেল রানা তারা সকলেই জানান, করোনাকালীন লকডাউনে আমাদের দোকান পুরোপুরিভাবে বন্ধ ছিলো। বর্তমানে দোকান খুললেও করোনার কারণে সকল অনুষ্ঠানাদি বন্ধ রয়েছে। আমাদের পরিবার এই ব্যবসার উপর চলে। তাছাড়া আমাদের দোকানে ৫ থেকে ৭ জন করে কর্মচারী আছে। তাদেরও বেতন দিতে পারছিনা।
দোকানমালিক কর্মচারীসহ সকলে মিলে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। সংকটময় অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার
সহায়তা পাইনি। তাই সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।
রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু বলেন, অসহায় ডেকোরেটর ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি ভাবে সহযোগীতা করার দরকার।
এ বিষয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ জানান, ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের এখনও কিছু দেওয়া হয়নি তবে ইউএনও’র সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, অসহায় ব্যবসায়ীরা যদি দরখাস্ত দেয় তাহলে আমি তাদের জন্য উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে সহায়তা করবো।

Sharing is caring!