ডিবি’র এসআই মহিউদ্দিনের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের নির্যাতনে শিক্ষানবিশ আইনজীবী জেরাউল করিম রেজা’র মৃত্যু হয়েছে দাবি জানিয়ে অভিযুক্ত পুলিশের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় নগরীর সদর রোডস্থ অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে নিহত রেজাউল করিমের স্বজন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নিহত রেজাউল করিম রেজা’র বাবা ইউনুস মুন্সি’র সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন রেজাউলের স্ত্রী মারুফা বেগম।

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নরুল হক। এছাড়াও গণসংহতি আন্দোলন এ মানববন্ধন কর্মসূচি একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করে।

 

এসময় বক্তারা রেজাউল করিম রেজা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন আহমেদসহ জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজাকে নগরীর সাগরদী হামিদ খান সড়কে নিজ বাসা সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যান ডিবি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদ।

ওই রাতেই মহিউদ্দিন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ৩০ ডিসেম্বর ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রেজাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে পড়েন রেজাউল। পরে ওই রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশি নির্যাতনে রেজাউলের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

এমন অভিযোগ তুলে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদের নাম উল্লেখ করে এবং তার সহযোগী অপর দুই পুলিশ সদস্যকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন নিহতের বাবা। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসআই মহিউদ্দিনকে ডিবি কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।