ট্রলার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খুন করা হয় পিতা-পুত্রকে, গ্রেফতার ৩ জনের স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালের বাকেরগঞ্জে পিতা-পুত্রকে খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। পাশাপাশি নিহতদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মায়ের পরশ নামক ট্রলার, মোবাইল সেটসহ বেশকিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২ টায় বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের ইন সার্ভিস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ট্রলার ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই পিতা ও পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আর ছিনতাই হওয়া ট্রলারটি বিক্রি করার সময়ই ঢাকার সদরঘাট সংলগ্ন তেলঘাট এলাকা থেকে ঘাতকদের গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরলক্ষ্মীপাশা এলাকার একটি বাগানের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা ২০-২২ বছরের যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুলাই সকাল ৮ টার দিকে একই এলাকার নদীর ধারে ভাসমান অবস্থায় ৫৫ বছরের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাদের পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, মরদেহ দুটি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলার দোয়ানিয়া এলাকার মোঃ হেলাল উদ্দিন ও তার ছেলে ইয়াসিন হাওলাদারের। তিনি জানান, বাবা-ছেলে উভয়ে মাছ ধরার চাই (ফাঁদ) তৈরি করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করতেন।

গ্রেফতারকৃতরা তাদের হত্যা করে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা মূল্যের মায়ের পরশ নামক ট্রলার, নগদ টাকা-পয়সা, নিহত হেলালের ব্যবহৃত একটি মোবাইল নিয়ে পলায়ন করেন। পরবর্তীতে জেলা পুলিশের তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একটি টিম মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘাতকদের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং ঢাকা জেলা পুলিশের সহায়তায় ৬ জুলাই ঢাকার সদরঘাটের তেলঘাট এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে।

এসপি জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলেন বাকেরগঞ্জের দুবারচর এলাকার মৃত জয়নাল হাওলাদারের ছেলে মোঃ বাদশা হাওলাদার (৩৮), গোমা এলাকার সবুজ খাঁ’র ছেলে শাহীন খাঁ (২৫) ও একই এলাকার আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে ছানির হাওলাদার (১৭)। এদের মধ্যে বাদশা ঘটনার মূল হোতা ও তার বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় দস্যুতা, চুরিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

সাইফুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, তারা হত্যাকাণ্ডের ৪/৫ দিন আগে থেকেই ভিকটিমদের ওপর নজর রাখছিলেন। ঘটনার দিন ৬০ পিস মাছ ধরার ফাঁদ (চাঁই) কেনার কথা বলেন এবং চাঁইগুলো তাদের এলাকায় পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ করেন। পূর্ব থেকেই পরিকল্পনামাফিক বাদশা, শাহীন এবং সানি তাদের ট্রলারে ওঠেন এবং চরলক্ষ্মীপাশা নামক স্থানে ট্রলার থামিয়ে চাঁইগুলো নামাতে বলেন। ভিকটিম ইয়াসিনকে টাকা দেয়ার কথা বলে ট্রলার থেকে নামিয়ে একটু দূরের বাগানের দিকে নিয়ে যান গ্রেফতার হওয়া সানি এবং শাহীন। ওইসময় পেছন থেকে ছুরি চালিয়ে ইয়াসিনের গলা কাটেন বাদশা।

এসময় সানি ও শাহীন তার দু পা ধরে রেখে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে ঘাটে এসে ভিকটিম হেলালকে গ্রেফতার হওয়া শাহিন ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেন এবং মূল হোতা বাদশা তার পেটের দু’পাশে ছুরি বসিয়ে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পানিতে ডুবিয়ে দেন। এরপর গ্রেফতারকৃতরা ভিকটিমদের কাছে থাকা সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ১টি মোবাইল সেট, ট্রলার ও পরিধেয় কাপড়-চোপড় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পরবর্তীতে ঘাতকরা ট্রলারটি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রির সময় আটক হন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় গত ৪ জুলাই অজ্ঞাতদের আসামী করে হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী নাছিমা বেগম বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মোঃ নাঈমুল হক, আনোয়ার সাঈদ ও ফরহাদ সরদার উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!