টার্মিনাল-কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর : পায়রায় নবদিগন্তের সূচনা

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ পায়রায় সূচিত হলো আরেক নতুন দিগন্ত। দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দরে প্রথম টার্মিনাল এবং কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চীনের সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। কলাপাড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পায়রা বন্দরের সম্মেলনকক্ষে দু’পক্ষের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে পায়রা বন্দরের মূল টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পায়রা বন্দর নির্মানে মূল কাজ এগিয়ে গেল আরেক ধাপ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় প্রথম টার্মিনাল এবং কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মিত হতে যাচ্ছে এ চুক্তির মাধ্যমে। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলটি রাবনাবাদ থেকে মিলিত হয়েছে। ‘পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে। ৬৫০ মিটার দীর্ঘ প্রথম টার্মিনাল নির্মিত হলে সরাসরি পণ্যবাহী মাদার ভেসেল ভিড়বে। করবে পণ্য খালাস।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল, সদস্য (প্রকৗশল ও উন্নয়ন) কমোডর এম জাকিরুল ইসলাম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কমান্ডার (অব) এম রাফিউল হাসাইন, সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের বাংলাদেশের প্রতিনিধি রিচার্ড চেন, টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন প্রমুখ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চীন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান চেন জিচুন, ভাইস চেয়ারম্যান ঝাউ বাউহুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ইয়ান গুয়াংহুয়া এবং ইয়াং জুইবো।

পায়রা বন্দর কর্র্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। ৩০ মাসে কাজটি সম্পন্ন হবে। কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মিত হলে বছরে প্রায় আট লাখ ৫০ হাজার টিইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। কন্টেইনার ইয়ার্ডের কাজের আওতায় তিন লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ওয়ার্কশপ, ফায়ার স্টেশন, কন্টেইনার ফ্রেইড স্টেশন, গেট হাউজ, ফুয়েল স্টেশন, ভূ-গর্ভস্থ পানির আধার, পাম্প হাউস নির্মিত হবে।

এ টার্মিনাল নির্মাণ পরিকল্পনা, নকশা, প্রাক্কলন এবং প্রকল্প চলাকালীন কাজ দেখাশোনার জন্য কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কুনহুয়া ডাইয়ং হেরিমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত ১৮ জুন কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের কাজটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি (সিসিজিপি) অনুমোদন দিয়েছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৗশল ও উন্নয়ন) কমোডর এম জাকিরুল ইসলাম জানান, পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ এবং এ সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পায়রা বন্দরের পুরো কার্যক্রম চালু হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাবনাবাদ চ্যানেলের পাড়ে লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়ায় প্রথম টার্মিনাল এলাকায় যাতায়াতের জন্য ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সড়কের আন্ধারমানিক নদীর ইটবাড়িয়া-চিংগুড়িয়া পয়েন্টে আরও একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট লেগে থাকে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হন। আনুষঙ্গিক সকল সুবিধাসহ পায়রা বন্দরকে পুরোপুরি চালু করা গেলে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা পায়রা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যেমন উন্নতি হবে, তেমনি দেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। অর্থনৈতিক যোগানের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।