টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন : থাকবে আরও দু’দিন

প্রকাশিত: ১১:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে রূপান্ত ॥ সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সংকেত

স্টাফ রিপোর্টার :

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে বরিশাল টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আর দু’দিন থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়ায় সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বরের পরিবর্তে ৪ নম্বর ও নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি জেলা উপজেলায় টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর থেকে অতিবাহিত হয়েছে। পাশাপাশি টানা বর্ষণ জনজীবনে বিপর্র্যয় ডেকে এনেছে। বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের রোড ঘাট অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং হাট বাজারেও অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের উপস্থিতিতে তেমন লক্ষণীয় ছিল না।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, ‘গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপের কারণে বুধবার রাত ২টা থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুরু থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত বরিশালে ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। যার পরিমাণ আগামী দু’দিনে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে পায়রাসহ সকল সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর ও বরিশালসহ সকল নদী বন্দরগুলোতে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। পরবর্তীতে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। তাই সমুদ্র বন্দরগুলোতে চার নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।

এদিকে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনা, পটুয়াখালী এবং মঠবাড়িয়ায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনায় সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ১৮৫ মিলিমিটার তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এছাড়া পটুয়াখালীতে ১৭৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার, কলাপাড়া উপজেলায় ১৫৪ দশমিক ৫, এর বাইরে বরিশালে ৬১ মিলিমিটার, ভোলায় ৫০ মিলিমিটার, দৌলতখানে ২১ মিলিমিটার, বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ৩০ মিলিমিটার, বানারীপাড়ায় ৪২ মিলিমিটার, বাকেরগঞ্জে ৪৭ মিলিমিটার, খেপুপাড়ায় ১৫৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার, গলাচিপায় ১০৫ মিলিমিটার, ঝালকাঠি জেলায় ৩৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার ও পিরোজপুরে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন জানান, ‘‘নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টির সাথে সাথে বিভিন্ন নদ নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনভর বৃষ্টির কারণে জোয়ারের সময় কোন কোন নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে।

এর মধ্যে কীর্তনখোলার নদীর পানি বিপদ সীমার ২ দশমিক ৫৫ অতিক্রম করে ২ দশমিক ৬২ মিলিমিটারে পৌঁছেছে। একইভাবে আবুপুর নয়াভাঙলী নদীর পানি বিপদ সীমা ২ দশমিক ৩২ অতিক্রম করে ২ দশমিক ৯০ মিলিমিটারের পৌঁছায়।

এছাড়া দৌলতখানের সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপদ সীমা পেরিয়ে ৩ দশমিক ৬০ মিলিমিটার, বরগুনার বামনা উপজেলাধীন বিষখালী নদীর পানি বিপদ সীমা পেরিয়ে ২ দশমিক ৭৫ মিলিমিটারে পৌঁছেছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে জোয়ারের সময় কয়েকটি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। তবে ভাটি আসলে তা আবার নেমে গেছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকাল দু’বার জোয়ারের সময় নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

 

Sharing is caring!