ঝুপড়ি ঘরই ঠিকানা চরফ্যাশনের বৃদ্ধ দম্পতির

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২১

এম,নোমান চৌধুরী চরফ্যাশন প্রতিনিধি ॥ ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার দুলারহাট নীলকমল ইউনিয়নে বৃদ্ধ কাদের ও মরিয়ম দম্পতি জীর্ণ ভাঙা, কুড়ে ঘরে শীত ও বৃষ্টিতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কাদেরের বয়স (৭০) এবং স্ত্রী মরিয়মের বয়স (৬০)। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এই দম্পতির। খোঁজ রাখেনা কেউ। জীবন যাপনের জন্য মোটামুটি ভালো একটি আশ্রয়স্থলের প্রয়োজন, তাও নেই তাদের। অভাবে-অনটনে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট বাজারের উত্তর পাশে খালের পাড়ে বাঁশের খুঁটি, উপরে চট ও পলিথিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন তারা। বর্তমানে তাও নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে চলমান শৈত্যপ্রবাহে তীব্র শীতে জরাজীর্ণ ঘরে স্ত্রী-স্বামী বসবাস করছেন। তাদের দুই মেয়ে। বড় মেয়েকে এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিয়ে দেন এবং ছোট মেয়ে পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করছেন।

 

আব্দুল কাদের পূর্বে দিনমজুরের কাজ করতেন বর্তমানে বয়সের ভারে বার্ধক্যজনিত কারণে রোগাক্রান্ত অবস্থায় কোন কাজ করতে পারছেন না।

 

স্ত্রী মরিয়ম গ্রামের মানুষের কাছে হাত পেতে সামান্য কিছু আহার যোগাড় করে আনেন। তা দিয়ে চলে তাদের একটি দিন। পরদিন আবার একই ভাবে আহার যোগান মরিয়ম। এই ভাবেই চলতে থাকে তাদের জীবন।

 

বৃদ্ধ কাদের বলেন, আমি অসহায় লোক। কোন ভাবে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। বসত ভিটা নেই। খাল পাড়ে থাকি। কেউ আমাদের খোঁজ খবর রাখেনা। টাকার অভাবে ভাল চিকিৎসা করাতে পারিনা। ভাঙা ঘরে শীতের সময় তীব্র শীত আর বর্ষাকালে পানিতে ভিজতে হয় আমাদের। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য মোটামুটি একটি ঘর খুব প্রয়োজন। আপনাদের মাধ্যমে সরকার থেকে যদি একটা ঘর পেতাম তাহলে বাকি জীবনটা একটু ভালো ভাবে কাটাতে পারতাম। নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, সরকারের দেওয়া ঘরের তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এই অসহায় পরিবারটির পাশে থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

 

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি। সরকারি ঘর বরাদ্দ এলে তাদেরকে ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিব। পাশাপাশি ত্রাণ তহবিল থেকে তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।