ঝাড়-ফুঁকের নামে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ: নগরীতে ভণ্ড ফকির গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে সুখে রাখতে নাওন (গোসল) দেয়ার নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন ভণ্ড ফকির। ঘটনাটি জানাজানি হলে শঙ্কর দেবনাথ (৭০) নামের ওই ভণ্ড ফকিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকার সাগর গলিতে।

গ্রেফতারকৃত শঙ্কর দেবনাথ ধর্ষিতা কিশোরীর সম্পর্কে নানা হন। এই ঘটনায় বুধবার (১২ আগষস্ট) ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বরিশাল মহানগরীর কোতয়ালী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ভণ্ড ফকির শঙ্করকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভিকটিমের মা জানান, ভণ্ড ফকির শঙ্কর দেবনাথ সম্পর্কে তার মামা শ্বশুর হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিশু-কিশোর-কিশোরীদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে তাবিজ-কবজসহ ঝাড়-ফুঁক দিয়ে আসছিলেন।

তিনি বলেন, ‘তাঁর মেয়ে জন্ডিসে আক্রান্ত। বিষয়টি নিয়ে শঙ্কর দেবনাথ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন তিনি মেয়েকে নিয়ে বরিশালে আসতে বলেন। তাই গত বৃহস্পতিবার অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে বরিশালে এসে বাজার রোডে শঙ্করের বাসাতেই ওঠেন।

ভিকটিমের মা আরও বলেন, ‘গত শনিবার রাত ১০টার পরে শঙ্কর দেবনাথ আমাকে জানান মেয়ের শরীরে জটিল রোগ বাসা বেধেছে। স্বামীর সংসারে সুখ থাকবে না। শরীরের রোগ এবং বিয়ের পরে সংসারে সুখী হতে হলে তাকে নাওন (গোসল) দিতে হবে মর্মে ফকিরের ফিকির দেওয়ার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় কিশোরীকে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি পাশের কক্ষেই ছিলাম। তিনি সম্পর্কে মামা শ্বশুর হওয়ায় তাকে নিয়ে কোন সন্দেহ ছিল না। কিন্তু আমার মেয়ে নাওন শেষে বের হয়ে জানায় ঝাড়-ফুঁকের নামে তাকে কক্ষের মধ্যে আটকে ধর্ষণ করেছেন ভণ্ড ফকির শঙ্কর দেবনাথ। তবে লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন তারা।

এদিকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরে বুধবার রাত ১টার পরে বাজার রোড সাগর গলির ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ভণ্ড ফকির শঙ্করকে আটক কর হয়। তিনি ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ঘরের মধ্যে আটকে ধর্ষণ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শঙ্কর ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। পরে বুধবার দুপুরে এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Sharing is caring!