ঝালকাঠিতে প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজ শিক্ষকসহ পাঁচজন আহত

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির বাদলকাঠি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে কলেজ শিক্ষক ও তাঁর দুই ভাইসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে গুরতর জখম করা হয়েছে। আহত পাঁচজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানায় গুরুতর আহত যশোর এমএম কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুস সালামের ভাই বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুর রহমান ফেরদৌস বাদী হয়ে একই এলাকার রুহুল আমিন হাওলাদার, তার দুই ছেলেসহ ১৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

মামলার এজাহার সূত্রে প্রকাশ, ঝালকাঠি সদরের বাসন্ডা ইউনিয়নের বাদলকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল বারেক হাওলাদারের ছেলে যশোর সরকারি এম.এম কলেজের শিক্ষক ড. আব্দুস সালাম ও তার ভাইদের সাথে জমিজমা নিয়ে একই এলাকার রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার দুই ছেলে নাসির হাওলাদার এবং ইউপি সদস্য নাজিবুল ইসলাম নাদিমের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। গত বুধবার দুপুর একটার দিকে রুহুল আমিন হাওলাদার, তার দুই ছেলে নাসির উদ্দিন ও নাজিবুল ইসলাম নাদিমের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন রামদা, দা’, লোহার রড নিয়ে ড. আব্দুস সালামদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে চাষাবাদ শুরু করেন।

 

এতে ড. আব্দুস সালাম বাধা দিলে রুহুল আমিন হাওলাদার রামদা দিয়া আব্দুস সালামের মাথায় কোপ দেন, মামলার ২নং সাক্ষী ফিরোজ আলম আব্দুস সালামকে রক্ষা করতে আসলে ২নং আসামী মনির হোসেন তার মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেন। ৪নং সাক্ষী জুয়েল হাসান বাধা দিতে আসলে তাকে ১নং আসামী রুহুল আমিন মাথায় কোপ দিয়ে জখম করেন। ৪নং আসামী লোহার রড দিয়া পিটিয়ে জুয়েল হাসানের একটি হাত ভেঙে দেন। এ ছাড়াও আসামীরা বাদী পক্ষের গিয়াস উদ্দিন, মামুন হোসেন, খলিলুর রহমান ও মুজিবুর রহমানকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরতর আহত করেন। সাক্ষী ও স্থানীয়দের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।

 

বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক মামলার বাদী সাইফুর রহমান ফেরদৌস বলেন, প্রতিপক্ষ রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার ছেলেরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মীমাংসা তারা মানে না। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা আমাদের জমি দখল করতে আসে। আমার ভাই ড. আব্দুস সালাম তাদের বাধা দিলে রুহুল আমিন গং তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেয়। আমার ভাইয়ের অবস্থা এখনও শংকটাপন্ন। মামলা দায়েরের পর ৫/৬ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

 

এ ব্যাপারে বাসন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নাজিবুল ইসলাম নাদিম মোবাইল ফোনে বলেন, আব্দুল সালামদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে ঠিকই, কিন্তু আমরা কারো ওপর হামলা করিনি। বরং আব্দুল সালামরা আমার নব্বই বছর বয়স্ক বাবা রহুল আমিন হাওলাদারকে মারধর এবং তাকেই ১ নম্বর আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। আমার বাবা লাঠিতে ভর করে হাঁটেন, তিনি কি কারো ওপর হামলা করতে পারেন? আব্দুস সালামদের হামলায় আমাদের আত্মীয় আবুল কালাম এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।