ঝালকাঠিতে নদী তীরের মানুষ এখনও পানিবন্দি

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

আককাস সিকদার, ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥

ঝালকাঠির বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটের পানি কিছুটা কমলেও নদী তীরের বাসিন্দারা এখনো পানিবন্দি রয়েছে। অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে ঢুকে পড়া পানিতে গ্রামের ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘের নিমজ্জিত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পান চাষীরা। বরজে পানি প্রবেশ করে পান ও বরজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া আমনের বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা বীজ তুলতে শুরু করেছে। পানির মধ্য দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বীজ তুলে নিরাপদে সরিয়ে রাখার কাজ করছেন কয়েকটি ব্লকের কৃষকরা। তবে এসব বীজ সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। এদিকে নদীর পানিতে কাঁঠালিয়ার আমুয়া ও নলছিটির ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে দুই দিনধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অপর দিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে স্পিডবোটে গিয়ে তীবরর্তী মানুষের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন। ক্ষতিগ্রস্ত সবার হাতেই ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, স্বাভাবিকের চেয়ে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে চার-পাঁচ ফুট পানি বেড়েছে। পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে পানি জমে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ। সুগন্ধার নদী বেষ্টিত ঝালকাঠি শহরের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া ১১টি খাল থেকে পানি ওঠানামা করছে। কিছু কিছু এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় পানি জমে আছে। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো জোহর আলী বলেন, নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের ত্রাণ দেওয়া হবে। পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

Sharing is caring!