জোয়ার-ভাটায় চলছে ভোলা -লক্ষ্মীপুর ফেরি ঘাট, জনমানুষের কষ্ট

প্রকাশিত: 3:44 PM, July 6, 2019

দু’দিন ধরে জোয়ার আর ভাটার উপর নির্ভর করে চলছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরি সার্ভিস। অমাবশ্যার ফলে সৃষ্ট জোয়ারের চাপে ভোলায় মেঘনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দ্বিতীয় দিনের মতো প্লাবিত হয়েছে ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট। পানিতে ঘাট ডুবে যাওয়ায় বেশ দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘাটে ওঠা-নামা করতে পারছেনা কোনো যানবাহন। অন্যদিকে যাত্রীদেরও ভিজে পারাপার হতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই জোয়ার আর ভাটার ওপর নির্ভর করে ফেরিগুলোতে চলাচল করতে হচ্ছে।বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট দু’টি প্লাবিত হয় হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মেঘনার পানি, যে কারণে পানির চাপে নিচু এলাকা ডুবে যাচ্ছে।এদিকে ইলিশা ঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে উভয় পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘজটের। পণ্যবাহী যানবাহন ও গণপরিবহনগুলো পানির কারণে পারাপার হতে না পারায় ঘাটেই আটকে রয়েছে। দু’দিন ধরে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে চলছে ফেরি। দু’দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জোয়ারের পানির সমস্যার কারণে ইলিশা ঘাট ডুবে গেছে। এতে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ইলিশা ও মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের উভয় পাড়ে শতাধিক গাড়ির লাইন পড়েছে বলে জানিয়েছেন ফেরির ইনচার্জ ইমরান খান। তিনি বলেন, ৩ ঘণ্টার পর ভাটা হলে যানবাহন ওঠা-নামা করতে পারবে। মঙ্গলবারও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো।ঘাটের শ্রমিক ও চালকদের অভিযোগ, নিচু স্থানে ঘাট নির্মাণ এবং হাই ওয়াটার নির্ভর ঘাট স্থাপন না করায় ইলিশা ঘাটের এমন দুর্ভোগ। আর বিড়ম্বনা হয় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। সামান্য জোয়ার এলেই তলিয়ে যায় ফেরিঘাট।একই অবস্থা লঞ্চঘাটেরও। পানিতে ডুবে গেছে সিঁড়ি ও পল্টুনের বেশ কিছু অংশ। এতে সিঁড়ি বেয়ে যাত্রীদের ওঠা-নামায় মারাত্মক বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীদের ভোগান্তি বেশি। বাধ্য হয়ে পানিতে ভিজেই লঞ্চে ওঠা-নামা করছেন যাত্রীরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আলম বলেন, পানির চাপ আরো দু’দিন থাকবে। আমবশ্যার কারণে পানি বেড়েছে।এব্যাপারে জানতে চাইলে ভোলা বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ফেরির জন্য হাইওয়াটার ঘাট নির্মাণের জন্য প্রচেস্টা চলছে, অন্যদিকে লঞ্চঘাটটি খুব শিগগিরই মেরামত করা হবে।

Share Button