জোয়ারে ডুবেছে বরিশাল : আশঙ্কা পানি বৃদ্ধির

প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘু চাপ এবং পূর্ণিমার প্রভাবে বরিশাল নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীর পানি গতকাল বুধবার বিকালে বিপদসীমার ত্রিশ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া জেলার অধিকাংশ নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। এতে নদীর পানি উপচে বরিশাল নগরী সহ অধিকাংশ জেলা-উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চল ডুবে যায়। এদিকে বরিশাল নগরীর খাল ও ড্রেনগুলোতে বর্জ্য আটকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ঘনীভূত লঘুচাপে সৃষ্ট বৃষ্টিতে জোয়ারের পানি আরো বাড়ার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কীর্তনখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সবকটি নদ-নদীর পানি গতকাল বুধবার বিকালে বিপদসীমা অতিক্রম করে। মেঘনা তীরবর্তী উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী উপজেলার দুই তৃতীয়াংশ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভাগের ভোলা,পটুয়াখালী,বরগুনা ও ঝালকাঠি জেলার নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি পায়। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার।

গতকাল রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর পার্শ্ববর্তী কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদ সীমা (২৫৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভোলার দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি বিপদ সীমা (৩৪১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীর পানি বিপদসীমা (২৮১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝালকাঠির বিষখালী নদীর পানি বিপদ সীমার (২০৮ সেন্টিমিটার) ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া বিষখালী নদীর বরগুনা পয়েন্টের পানি বিপদসীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং পাথরঘাটা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পিরোজপুরের বলেশ্বর নদের পানি বিপদ সীমা (২৬৮ সেন্টিমিটার) ছুঁয়েছে। বাকেরগঞ্জের বুড়িশ্বর নদীর পানি বিপদ সীমার (২৪০ সেন্টিমিটার) ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে গতকাল বিকাল ৩টার দিকে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা ড্রেন দিয়ে পানি ঢুকে ডুবে যায় নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোডের একাংশ। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অশ্বিনী কুমার হল এলাকা ও তার আশপাশের সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি প্রবেশ করেছে অনেক বসতবাড়িতেও।

নগরীর নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত কীর্তনখোলার তীরের জনপদ সাগরদী ধান গবেষণা সড়ক, পূর্ব রূপাতলী, জাগুয়া, আমানতগঞ্জ, পলাশপুরসহ আরও অনেক এলাকা হাঁটু পরিমাণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সর্বাধিক সংকটে পড়েছেন কীর্তনখোলা তীর সংলগ্ন রসুলপুর, পলাশপুর, বরফকল ও স্টেডিয়াম বস্তির বাসিন্দারা। এসব অঞ্চলের আশেপাশের খাল এবং ড্রেনগুলোতে বর্জ্য আটকে থাকার কারণে ভাটির টানে পানি বেরিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি হয়। যে কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষেরা জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুম গতকাল জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ার হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিদপসীমা অতিক্রম করেছে। ভাটা শুরু হলেই পানি নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তবে বৃষ্টিপাত বাড়লে জলমগ্নতা বাড়তে পারে বলে আশংকা তাঁর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও হালকা বৃষ্টিপাতের কারণে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লঘুচাপটি আরো ঘনীভূত হচ্ছে এবং আগামী দুই-তিনদিন লঘুচাপের কারণে বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা আছে।

Sharing is caring!