জোরদার হচ্ছে সরকারি বরিশাল কলেজ’র নাম পরিবর্তনের দাবি

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের বাসভবনে পরিচালিত সরকারি বরিশাল কলেজের নাম ‘মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত’র নামে করার সরকারি প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের দাবি জোরদার হচ্ছে। সরকারি প্রস্তাবনা দ্রুত বাস্তায়নের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাস্তবায়ন কমিটি। একই সঙ্গে কলেজের নামকরণ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছেও পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় বরিশার মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস এবং দুপুর একটায় বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকারের হাতে বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সরকারি বরিশাল কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত সরকারি কলেজ’ নামকরণ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল, যুগ্ম আহ্বায়ক কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক (বীরপ্রতীক), সদস্য সচিব সাইফুর রহমান মিরণ, সমন্বয়কারী ¯স্নেহাংশু বিশ্বাস, কমিটির সদস্য ও বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ শাজেদা, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি নজরুল হক নিলু, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি সম্পা দাসসহ অন্যরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অবিভক্ত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের তথা বরিশালের কৃতী সন্তান মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্ত। তাঁর নামে বরিশাল সরকারি কলেজের নামকরণের দাবিতে কয়েক যুগ ধরে বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলন করে আসছে। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকারি বরিশাল কলেজের নামকরণ মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের নামে করে গেজেট নোটিফিকেশন জারি হওয়া অনেকটা এগিয়ে গেছে। এটা বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির স্বীকৃতিও বটে। তাই অবিলম্বে এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হওয়া উচিত।
পাকিস্তান সরকারের আমলে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের বাসভবনটি সরকার রিক্যুইজিশন করে এবং তিনি সর্বদা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন বলে তার বাসভবনে ব্রজমোহন কলেজের কসমোপলিটন ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬৬ সনে তার বাসভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘বরিশাল নৈশ মহাবিদ্যালয়’। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নৈশ কলেজটিকে প্রথমে বরিশাল দিবা ও নৈশ কলেজে রূপান্তর করা হয়। পরে এটির নামাকরণ করা হয় ‘বরিশাল কলেজ’। ১৯৮৬ সনে জাতীয়করণ করা হলে কলেজটির নামকরণ করা হয় ‘সরকারি বরিশাল কলেজ’। ১৯৯০ সনে অশি^নী কুমারের বাসভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সংস্কৃতিজনদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসন কলেজটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি চালাচালি শুরু করে উপর মহলে। গত ২৯ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় কলেজটির বর্তমান নাম পরিবর্তন করে ‘মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত সরকারি কলেজ’ নামে রাখার জন্য সুপারিশ সহ মতামত চায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কাছে। প্রশাসনের এসব গোপনীয় বিষয়ে প্রথমে কারো উচ্চবাচ্য ছিল না। এ ব্যাপারে প্রথম গত ৫ জুলাই “পাল্টে যাচ্ছে সরকারি বরিশাল কলেজের নাম” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা ‘আজকের বার্তা’।

Sharing is caring!