জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের অনুমতি পেল বিএনপি : নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে তল্লাশী

প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালে বিভাগীয় বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি পেল জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। নগরীর জিলা স্কুল মাঠে আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার তাঁদের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। তাই বুধবার রাতে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারসহ বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে, ‘সমাবেশকে ঘিরে রাতভর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি তল্লাশীর নামে হয়রানির অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার।

 

তিনি বলেন, ‘সমাবেশ বাধাগ্রহমশ করতেই পুলিশ তল্লাশী করছে। বুধবার দুপুর দুইটার দিকে নগরীর সদর রোডস্থ অশি^নী কুমার হল চত্বরে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ নিয়ে আয়োজিত জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপি’র সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আকবর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘দেশব্যাপী নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের নেতৃত্বে ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

 

সমাবেশ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি’র দাবি ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজার প্রতিবাদ জানানো হবে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ- বীর বিক্রম। এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।

 

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু সমাবেশের স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় আমরা পোস্টার ছাপাতে-লিফলেট এবং ব্যানার করতে পারিনি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের অনুমতি চেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে সমাবেশের চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত সমাবেশের স্থান বা অনুমতি দেয়া হয়নি।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে পুলিশ বিএনপি’র স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে তল্লাশীর নামে হয়রানি শুরু করেছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা রাস্তায় বের হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।

সরোয়ার বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমরা দেশের গণতন্ত্রের কথা বলতেই পারি। আর গণতন্ত্রের কথা বলতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক ৮টি জেলার নেতা-কর্মীরা আসবেন। আমরা আশা করছি আমাদের সমাবেশ করার অনুমতি দিয়ে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তা না হলে আমরা আমাদের দলীয় কার্যালয়ে নির্ধারিত দিনেই সমাবেশ করবো। এতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

 

অপরদিকে, ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে বরিশাল মহানগর বিএনপি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন জানান, ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএনপিকে সমাবেশ করার জন্য মৌখিকভাবে আদেশ দিয়েছে। আর সমাবেশের জন্য জিলা স্কুল মাঠে স্থান দিয়েছে। পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সেখানেই সমাবেশের আয়োজন করছি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘মৌখিক অনুমতি পেয়ে বুধবার রাতেই বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার সমাবেশ স্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সেখানে সমাবেশের আয়োজনে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। দুপুর ২টা থেকেই নির্ধারিত স্থানে সমাবেশ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তারিন।

 

তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসের বলেন, ‘কমিশনার স্যার অফিসিয়াল কাজের জন্য বরিশালের বাইরে ছিলেন। তিনি রাতেই বরিশালে ফিরবেন। তিনি আসার পরে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কিনা সে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি আমরা মাথায় নিয়েছি। কোভিডের মধ্যে অনুমতি দেয়া ঠিক হবে কি-না, আইন-শৃঙ্খলা বিঘœ হবে কি-না, যানজট হবে কিনা সে বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি অনেক কথা এবং দাবি জানাতেই পারে। কিন্তু আমরা তাদের সমাবেশের অনুমতি দেইনি। কমিশনার স্যার আসার পরে এই বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। নেতা-কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চেকআপ পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আমাদের যেটা কার্যক্রম সেটা করবই। তবে সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই যে তল্লাশী করা হয়েছে সেটা ঠিক নয়।