জালিয়াতি করা প্রত্যাশীদের নিয়েই শেবাচিমে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন: কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেয়া চাকরি প্রত্যাশীদের নিয়েই বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ গ্যালারিতে এই ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে, নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তারা পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করাতে বাইরে থেকে দফায় দফায় নকল সরবরাহ করতে গিয়ে ধরাও পড়েছেন।
এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া একজন প্রার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ‘সম্প্রতি বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলা ব্যতীত বাকি পাঁচটি জেলায় কোটা বাদ দিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২টি ক্যাটাগরিতে ৩২ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।

 

এর পরেও বরিশালের বাসিন্দা এবং হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের স্বজনদের জন্য নিয়োগের আবেদন করেন। অভিযোগ উঠেছে ওইসব ব্যক্তি বরিশালের বাসিন্দা হলেও ভোলা, টাঙ্গালই এবং গাজীপুরের বাসিন্দা দাবি করে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, ‘যারা জাল জালিয়াতি করেছে তাদের মধ্যে একজনের নাম আবুল কালাম তাজুল। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। বর্তমানে বসবাস করেন নগরীর রূপাতলী এলাকায়। তিনি শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমান পরিচালকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। দু’বছর পূর্বে সরকারি চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়া তাজুল জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ড্রাইভার পদে চাকরির আবেদন করেছেন। তিনি নিজের ঠিকানা দিয়েছেন গাজীপুরে।

 

একইভাবে হাসপাতালের অফিস সহকারী সৈয়দ নান্না’র মেয়ে এবং হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের কবির এর মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দিতে একইভাবে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আবেদন করেছেন। এদের তালিকায় রয়েছে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রধান সহকারীর নামও।
অভিযোগ রয়েছে, ‘পছন্দের লোকেদের চাকরি পাইয়ে দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব আবেদনকারীদের আবেদনপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেননি। তারা তড়িঘড়ি করেই জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া আবেদনকারীদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি হিসেবে প্রবেশপত্র দিয়েছেন। সবশেষ আবেদনকারীরা শুক্রবার নির্ধারিত দিনে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণও করেছেন। শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ৪৪৪ জন অংশগ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

পরীক্ষার কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ‘নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তার করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক নুরুন্নবী চৌধুরী তুহিন। তিনি পরীক্ষায় অংশ নেয়া তার প্রার্থীদের বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এই কাজে সহযোগিতা করেন হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. সৈকত। এটি করতে গিয়ে বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয় তাদের। এমনকি শেষ পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপে তাদের একজন প্রার্থীকে বরখাস্তও করা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

এসব বিষয়ে জানতে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ‘৪৪৪ জন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এদের পরীক্ষার ফলাফল শনিবার সন্ধ্যায় নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়া হবে। তবে পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তার এবং অসদুপায় অবলম্বের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি ওই সূত্রটি।