জার্মানির ১৬ প্রদেশের ১৫টিতেই করোনাভাইরাসc

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২০

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কভিড ১৯ বা করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৮৪৭ জন। দেশটির ১৬টি প্রদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫টিতেই এ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। একমাত্র স্যাক্সনি অ্যানহাল্ট প্রদেশে এখনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংক্রামক রোগ নির্ণয়ক ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট।

তবে জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও কেউ মারা যায়নি। তবে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় অর্ধশতজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ রাজ্যে ৩৯২ জন করনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

রাজ্যের একটি এলাকা হাইন্সবেরগে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়েছে এই ভাইরাসটি। জনবহুল এ রাজ্যটিতে কয়েকটি স্কুল এবং ডে কেয়ার সেন্টারে কয়েকজনকর্মীর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ায় সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে বাডেমবুটেমবার্গ (আক্রান্তের সংখ্যা ১৮২ জন) এবং তৃতীয় অবস্থানে বেভারিয়া বা বায়ান মিউনিখ (আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৮ জন)।

এ ছাড়াও শুক্রবার থেকে হেসেন প্রদেশের রিম্বাখে অবস্থিত মার্টিন লুথার স্কুলের সপ্তম ক্লাসের ৯৯ জন ছাত্র এবং তাদের সঙ্গে থাকা দশ তত্ত্বাবধায়ককে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিক্ষা সফর থেকে ফেরার পরে সতর্কতা অবলম্বনের কারণে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শিক্ষা সফরে তাদের এক সহপাঠী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল।

ভাইরাসের সংক্রামন ঠেকাতে এরই মধ্যে বার্লিন আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা, লাইফজিক বুক ফেয়ার, হেনভার আন্তর্জাতিক ইন্ডাস্ট্রি ফেয়ারসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্ট বাতিল করা হয়েছে। জার্মানির সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে করোনাভাইরাসের কারণে।

এদিকে জার্মানিতে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে সবখানে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্পাহন একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ‘ভাইরাসটি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চাপের মধ্যে ফেলবে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬শ জনে। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৬০ হাজার ১৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বিশ্বব্যাপী ১০৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।

jagonews24

শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৯৬ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৯৭ জনের। চীনের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৪ এবং মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের।

চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮৩ এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩৩ জনের। অপরদিকে, ইরানে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৮২৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১৪৫ জন।

জাপানে নোঙ্গর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। ফ্রান্সে ৯৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১৬ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছে ৪৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।

স্পেনে আক্রান্ত ৫২৫ এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ৪৩৮, মৃত্যু ১৯। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৬৮ এবং মারা গেছে ১ জন, যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২০৯ মৃত্যু ২। ইরাকে আক্রান্ত ৫৪, মৃত্যু ৪। ভারতে ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর প্রাণহানি ঘটেনি।

এছাড়া, সুইডেন আক্রান্ত ১৬১, সিঙ্গাপুরে ১৩৮, নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ১২৮ এবং মৃত্যু ১, নরওয়েতে আক্রান্ত ১২৭, বেলজিয়ামে ১০৯, হংকংয়ে ১০৮, মালয়েশিয়ায় ৯৩, অস্ট্রিয়ায় ৮১, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত ৭৭, মৃত্যু ৩, বাহরাইনে ৮৫, কুয়েতে ৬১, কানাডায় ৬০, থাইল্যান্ডে ৫০ এবং মৃত্যু ১, তাইওয়ানে আক্রান্ত ৪৫ এবং মৃত্যু ১, গ্রিসে ৬৬, আমিরাতে ৪৫, আইসল্যান্ডে ৫০, সান মারিনোতে ২৬ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যু ১, ডেনমার্কে আক্রান্ত ২৭, লেবাননে ২৮, ইসরাইলে ২৫, চেক রিপাবলিকে ২৬, আয়ারল্যান্ডে ১৯, আলজেরিয়াতে ১৯, মিসরে ৪৮ এবং ভিয়েতনামে ১৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

অপরদিকে, ওমানে ১৬, ফিলিস্তিনে ১৯, মিসরে ১৫, ফিনল্যান্ডে ১৯, ব্রাজিলে ১৯, ইকুয়েডরে ১৪, পর্তুগালে ১৩, রাশিয়াতে ১৫, ক্রোয়েশিয়ায় ১২, কাতারে ১২, ম্যাকাউতে ১০, এস্তোনিয়ায় ১০, জর্জিয়ায় ১৩, রোমানিয়ায় ১৩, আর্জেন্টিনায় ৯, স্লোভেনিয়ায় ১২, আজারবাইজানে ৯, বেলারুশে ৬, মেক্সিকোতে ৭, পাকিস্তানে ৬, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ৬ এবং মৃত্যু ১, সৌদি আরবে ৭, চিলিতে ৭, পোল্যান্ডে ৬, স্লোভাকিয়ায় ৩, পেরু ৬, ইন্দোনেশিয়ায় ৪, নিউজিল্যান্ডে ৫, সেনেগালে ৪ ও হাঙ্গেরিতে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া লুক্সেমবার্গে ৩, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ৩, বসনিয়ায় ৩, ডোমিনিক প্রজাতন্ত্রে ২, মরক্কোতে ২, আফগানিস্তান ৪, কম্বোডিয়া ২, বুলগেরিয়া ২, ক্যামেরুন ২, মালদ্বীপ ২, দক্ষিণ আফ্রিকা ২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে, আন্দোরা, আর্মেনিয়া, জর্ডান, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, মোনাকো, নেপাল, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, ভুটান, কোস্টারিকা, ভ্যাটিকান সিটি, গিব্রালটার, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং টোগোতে একজন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

Sharing is caring!