জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ অস্তিত্ব সংকটে থাকা বরিশালের ২২ খাল


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০

এম বাপ্পি ॥

নগরায়নের এই যুগে বরিশাল নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালগুলো দিনদিন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অবৈধ দখলদারিত্ব এবং দূষণের কবলে পড়ে জোয়ার-ভাটা প্রবাহিত খালগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ যেমন থাকেই না, তেমনি অতিবর্ষণের সময় পানি নিষ্কাশনের প্রধান অন্তরায় হয়ে ওঠে এসব খাল। ফলে বৃষ্টি এবং নদীতে অতিরিক্ত জোয়ার এলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে নগরী। যদিও সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মেগা প্রকল্পের আওতায় খাল খননের জন্য বরাদ্দ চেয়েছে বিসিসি। তবে অনুদান নির্ভর এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ মেলেনি এখনও। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালালেও বন্ধ হয়নি খালের দখলদারিত্ব। তাই সহসাই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলছে না নগরবাসীর।

জানা গেছে, জোয়ার ভাটা বিদ্যমান এমন খাল নগরীতে রয়েছে ২২ টি। তবে কাগজে কলমে ২২ টি খালের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে এই ২২ খালের অধিকাংশই এখন মৃতপ্রায়। দূষণের কবলে পড়ে জোয়ার-ভাটা প্রবাহিত খালগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। আর এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে নগরীর জলাবদ্ধতার ক্ষেত্রে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এখনই এসব কার্যক্রম প্রতিহত না করলে অচিরেই অস্তিত্ব হারাবে এই খালগুলো।

অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে অস্তিত্ব সংকটে থাকা খালগুলো হলো- নগরীর ১, ২, ৭, ৮, ৯, ১৯ ও ২০ নং ওয়ার্ডের জেল খাল; ১২, ১৪, ২৩, ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ডের সাগরদী খাল; ১, ৩ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের লাকুটিয়া খাল; ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের আমানতগঞ্জ খাল; ১২, ১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ডের নাপিতখালী খাল; ১০ ও ১৬ নং ওয়ার্ডের ভাটার খাল; ১৬, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের ভাড়ানীর খাল; ৯, ১১, ২৩, ২৫, ২৬ নং ওয়ার্ডের শোভারানীর খাল (চাঁদমারীর খাল); বরিশাল-বানারীপাড়া রোড থেকে কুদঘাটা পর্যন্ত ২৭ নং ওয়ার্ডের ভেদুরিয়া খাল; ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ডের ইছাকাঠী উঃ কড়াপুর রাস্তা সংলগ্ন খাল; ৩০ নং ওয়ার্ডের কলাডেমা খাল; ২২, ২৩ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের নবগ্রাম খাল; ২৬ নং ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া খাল; ৯, ২৩, ২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ডের পুডিয়া খাল, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের সাপানিয়া খাল; ৪ নং ওয়ার্ডের জাগুয়া খাল; উঃ নবগ্রামের সাগরদী খাল এবং টিয়াখালী খাল, কাশীপুর খাল, ঝোড়াখালি খাল ও সোলনা খাল।

তবে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এগুলো মৃত প্রায় রূপ ধারণ করেছে।

সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বিসিসির সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খাল উদ্ধার এবং সংরক্ষণের ৩টি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫০ কোটি টাকা। তবে অনুদান নির্ভর এ প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ মেলেনি বিধায় খালগুলো পূর্বের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। আর এ কারণে অতিবৃষ্টি এবং নদীর পানি বেড়ে নগরীতে ঢুকে পড়লেও নেমে যেতে বিলম্ব ঘটছে।

এ প্রসংগে বরিশাল বিএম কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজা আক্তার বলেন, নগরীর খালগুলো নগরীর প্রাণ। বৃষ্টিতে জমে যাওয়া পানিসহ বর্জ্য নিষ্কাশনে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই খালগুলো রক্ষণা-বেক্ষণ একান্ত দরকার। তিনি বলেন, কেবল প্রশাসন কর্তৃক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না, খাল রক্ষায় জনসচেতনতাও প্রয়োজন। তাই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নগরীর খালগুলোর অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।

জানতে চাইলে ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমান বলেন, শুধুমাত্র তার ওয়ার্ডের খালটিই নয়, নগরীর অন্যান্য খালগুলো সংস্কার এবং পুন:খননের পরিকল্পনা তারা ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছেন। এ জন্য জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে। এডিবির অর্থ বরাদ্দ পেলেই বিসিসি এ বিষয়ে কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানান।