ছাত্রীর সন্তান পিঠে নিয়ে ক্লাস নেন আমার মা!

প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই ক্লাস করতে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে লরেন্সভিলের জর্জিয়ার গুইনেট কলেজের এক শিক্ষার্থী। কিন্তু বাচ্চা নিয়ে মনোযোগ দিয়ে ক্লাস লেকচারের নোট তুলতে পারছিলেন না তিনি। তাই ছাত্রী যাতে ভালোভাবে ক্লাস করতে পারেন এ কারণে ওই কলেজের অধ্যাপক নিজেই শিশুটিকে পিঠে নিয়ে ক্লাস করালেন।

অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও জীববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক রামাতা সিসোকো সিস বলেন, ওই ছাত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল ক্লাসে বাচ্চাকে নিয়ে আসা যাবে কিনা। এরই মধ্যে কয়েকটি ক্লাস মিস করেছে এবং পিছিয়েও গেছে ওই ছাত্রী। সামনে ওদের পরীক্ষা রয়েছে। আর পেছোতে চাইছিল না। তিনি আরো বলেন, আমি জানতাম ওই ছাত্রীটি খুব স্মার্ট এবং পড়াশোনাতেও ভালো। ও সত্যিই শিখতে চাইত।

অধ্যাপকের ওই ছাত্রী তথা শিশুটির মা যখন সন্তানকে নিয়ে ক্লাস করতে আসেন তখন অধ্যাপক সিস বুঝতে পারেন কোলে বাচ্চাকে নিয়ে ক্লাসে মন দেওয়া কতটা সমস্যার! তিনি বলেন, আমার দেশের বাড়ি মালিতে আমরা বাচ্চাদের নিরাপদে পিঠে বেঁধে রাখার জন্য চাদর এবং কাপড়ের অন্যান্য টুকরো ব্যবহার করি। আমার স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই ছিলো শিশুটিকে সুরক্ষিত রাখার উপায় খুঁজে বের করা। তখন আমি কাছেই থাকা একটি পরিষ্কার ল্যাব কোট পিঠে বেঁধে বাচ্চাটিকে বহন করি।

ছাত্রীকে সাহায্য করতে অধ্যাপক শিশুটিকে তার পিঠে বেঁধে নেন এবং তিন ঘণ্টা ধরে শিশুটিকে নিজের কাছেই যত্নে রাখেন যাতে তার মা মন দিয়ে নোট নিতে পারেন। মায়ের এমন কাজকে বড় করেই দেখছেন অধ্যাপক সিসের মেয়ে অ্যানা। তিনি ক্লাস নেওয়ার সময় তার মায়ের একটি ছবি শেয়ার করেন টুইটারে। শুক্রবার পোস্ট করা হয় ওই ছবিটি। এরপরই ছবিটি মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইটে ভাইরাল। অনলাইনে শেয়ার হওয়ার পরে, ছবিটি হাজারো মানুষ ‘লাইক’ করেছেন এবং প্রশংসায় ভরে গিয়েছে ওই পোস্ট।

এর আগে গত মার্চে মোরহাউস কলেজের একজন গণিতের অধ্যাপক একইভাবে ক্লাসে লেকচার দেওয়ার সময় একজন শিক্ষার্থীর বাচ্চাকে সামলে রেখে সকলের মন জয় করেছিলেন।