চাকরীর প্রলোভনে ভোলার তরুণীকে পতিতালয়ে বিক্রি : ভাবী আটক

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১

এসবি মিলন, লালমোহন প্রতিনিধি ॥ ভোলার লালমোহন উপজেলার এক তরুণীকে মোটা অংকের বেতনে শাড়ী কাপড়ে পুঁতি লাগানোর চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে সেখানে পতিতা দালালদের কাছে বিক্রি করেছেন তার ভাবী। ঘটনার প্রায় এক বছর পর ভারতের ব্যাঙ্গালোরের একটি হেরেমখানা থেকে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফিরে থানায় হাজির হন ওই তরুণী। পরে তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে উপজেলার ডাওরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরুণীটির ভাবী রুমা বেগমকে আটক করে লালমোহন থানা পুলিশ। আটক রুমা বেগম, উপজেলার ডাওরী এলাকার শিউলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বাহাদুর বয়াতীর স্ত্রী।

লালমোহন থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, নির্যাতিতা ওই তরুণী বাদী হয়ে তার ভাবী রুমা বেগম, রুমা বেগমের ফুফু (ভারতে অবস্থানকারী) জোসনা বেগম এবং জোসনা বেগমের স্বামী নরসিংদী সদর থানার পঞ্চবতী শ্রীনগর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাকিন আলী বাবুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, নির্যাতিতা তরুণীটির আপন ভাবী রুমা বেগম, তার ফুফু জোসনা বেগমের মাধ্যমে প্রায় ৩ বছর আগে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে যান। সেখানে রুমাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করান রুমার আপন ফুফু জোসনা। গত দুই বছর আগে রুমা বেগম দেশে ফিরে তার ননদকে (নির্যাতিতা তরুণী) শাড়ী কাপড়ে পুঁিত লাগানোর কাজে মোটা অংকের বেতনে চাকরীর প্রলোভন দেখাতে থাকেন। এরই মধ্যে লালমোহনের ডাওরী এলাকায় ওই তরুণীর বাড়িতে হাজির হন রুমা বেগমের ফুফু ভারতের ব্যাঙ্গালোরের বাসিন্দা জোসনা বেগম। ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি রুমার ফুফু জোসনা বেগম, তরুণীটিকে প্রথমে ঢাকায় নিয়ে একটি বাসায় ওঠান। সেখানে আটকে রাখেন ২০ দিন। এর পর তাকে বেনাপোল ও কোলকতা হয়ে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে একটি বাসায় রাখেন আরো ২০ দিন।

পরে জোসনা বেগম, তরুণীকে বিক্রি করে দেন পতিতা দালালদের কাছে। দালালরা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তরুণীটিকে প্রায় এক বছর ঘুরিয়ে পতিতা কাজে বাধ্য করে।

এদিকে অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় গত ১৫ ডিসেম্বর তরুণীটি কৌশলে দালালদের হেরেমখানা থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন ব্যাঙ্গালোরের মারোথরি থানায়। এর পর গত ১ জানুয়ারি মারোথরি থানা পুলিশ যশোরের এনজিও সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের হাতে তুলে দেয় তরুণীটিকে। পরে গত ২০ জানুয়ারি বুধবার এনজিও সংস্থার লোকজন তরুণীকে নিয়ে লালমোহন থানায় হাজির হন। এনজিও সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রোগ্রাম অফিসার মুহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্যাতিতা তরুণীর ভাবী রুমা বেগমই তার আপন ননদকে জেনে শুনে ভারতের বাসিন্দা রুমার ফুফু জোসনার হাতে তুলে দিয়েছেন। রুমা ভারতে গিয়ে নিজেও এই ঘটনার শিকার হয়ে বিষয়টি গোপন এবং তার ননদের জীবনকেও বিপন্ন করেছেন। এমন অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিৎ।