চলন্ত ট্রেনে সন্তান জন্ম, ৯৯৯ এ ফোন করার পর হাসপাতালে

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

চলন্ত ট্রেনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন নবীয়া বেগম (৩৪) নামে এক নারী। কিন্তু সন্তান জন্ম দিলেও তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।রোববার রাতে রাজধানীর কমলাপুর থেকে উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাটগামী আন্তনগর লালমনি এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নবীয়া ও তার স্বামী ছকমাল মিয়া ট্রেনে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই নবীয়ার প্রসব বেদনা ওঠে। গভীর রাতে আশপাশে ট্রেন থামার মতো কোনো রেলস্টেশন ছিল না। ফলে নবীয়া ট্রেনেই সন্তানের জন্ম দেন।

ট্রেনটিতে কোনো চিকিৎসক না থাকায় অন্য নারী যাত্রীদের সহায়তায় নবীয়া সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান জন্ম দিলেও তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। তাই সকাল সোয়া ৭টার দিকে ট্রেনটি বগুড়া স্টেশনে থামলে নবীয়া ও তার স্বামী সেখানে নামেন।স্টেশনে অপেক্ষমাণ একজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সেখান থেকে বিষয়টি বগুড়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্টেশন অফিসার আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল রেলস্টেশন থেকে প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। বর্তমানে নবীয়া বেগম হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন।

নবীয়া ও তার স্বামী ছকমাল মিয়া জানান, তাদের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে। ছকমাল মিয়া পেশায় দিনমজুর। রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করেন। পোশাকশ্রমিক নবীয়া সন্তান পেটে আসার পর আর কাজে যাননি। এ ছাড়া চিকিৎসকের কাছে যাননি। এজন্য কবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে সেটাও জানা ছিল না এই দম্পতির। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে অন্য যাত্রীরা তাদের বগুড়া রেলস্টেশনে নামার পরামর্শ দেন।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আকরামুল হাসান জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে সকালে বগুড়া স্টেশন থেকে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, নবীয়া ও তার নবজাতক সুস্থ আছে।

Share Button