চরমোনাইতে চাঁদাবাজি মামলার ঘটনায় মা-মেয়েকে হত্যার চেষ্টা!

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সদর উপজেলা চরমোনাইতে চাঁদাবাজি মামলার জের ধরে মা-মেয়েকে হত্যার চেষ্টায় হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় ডিঙ্গামানিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, ওই এলাকার আমির হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম এবং তার মেয়ে মাকসুদা।
বর্তমানে তারা গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত রোকেয়া বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে রোকেয়া বেগম দের সাথে জমিজমা নিয়ে রোকেয়ার বড় ভাই খলিলুর রহমানের বিরোধ চলে আসছে। খলিল ও তার সহযোগীরা রোকেয়ার জমি জবর দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজমান।

রোকেয়া আরো জানান, এই জমি আমাদের পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া এবং কিছু আছে ক্রয়কৃত জমি। আমার দুই ছেলে মাসুদ ও মাসুম প্রবাসে থাকে। এ সুযোগে বড় ভাই খলিল ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক আমাদের জমি আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়ে আমাদের উপর দফায় দফায় নির্যাতন চালায়। বিষয়টি আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সহ প্রশাসনকে জানিয়েছে। এতে করে খলিলসহ তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হন। তাছাড়া প্রায় সময়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমাকে সহ আমার পরিবারকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় খলিল। খলিলের অত্যাচারে আমরা আমাদের পুরান বাড়ি থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজস্ব জায়গায় বাড়ির সামনে নতুন ঘর তৈরি করি।
সেখানেও খলিল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা দ্বারা ঘর তুলতে বাধা সহ হুমকি প্রদান করে। এমনকি মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদাবাজির ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি স্বামী আমির হোসেন বাদী হয়ে খলিলসহ নামধারী আটজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন।

চাঁদাবাজি মামলায় অন্যান্য আসামিরা হলেন খলিলুর রহমানের ছেলে আলামিন, মনসুর, এবং তাদের সহযোগী রফিক হেলাল উদ্দিন কুট্টি, শহিদুল, জামাল হাওলাদার। এছাড়া আরো অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। চাঁদাবাজি মামলা করায় খলিলসহ তার সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। তারা মামলার জের ধরে আমির হোসেনসহ তার পরিবারকে ফের হত্যার হুমকি প্রদান করে। এবং পুনরায় চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার ১২ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটায় খলিল সহ কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে রোকেয়া বেগমের উপরে হত্যার চেষ্টায় হামলা করে। এ সময় তাকে বাঁচাতে মেয়ে মাকসুদা আসলে তাকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।
খলিল সহ অন্যান্যরা মা-মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরে তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে রোকেয়া বেগম এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে সমস্যা যদি পাওয়া যায় তাহলে যেকোনো সময় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এদিকে হামলার পর পর হামলাকারী খলিল ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে নাটকীয় কায়দায় তার ভাতিজি সুরিয়া কে শেবাচিমে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলার প্রসাতুতি চলছে বলে আহতের স্বজনরা জানান।