চরফ্যাসনে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূ হাসপাতালে, আটক ১

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

এম, নোমান চৌধুরী, চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি ॥

চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার নীলকমল ৮নং ওয়ার্ডের সোহাগের স্ত্রী মোমেনা বেগমকে তার স্বামীসহ, শ্বশুর,শাশুড়ি কর্তৃক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় আসামী মফু (৩২) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

গৃহবধূ মোমেনার অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, স্বামী সোহাগ কিছুদিন যাবত ব্যবসার কথা বলে গৃহবধূর পিতার কাছ থেকে যৌতুকের ১ লাখ টাকা দাবী করে আসছিলেন। পিতার কাছে থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে ওই গৃহবধূ অস্বীকার করায় গত ১৬/০৫/২০২০ইং শ্বশুর আঃ আলী, শাশুড়ি নিরতাজ, মাফু, রেহানার পরামর্শে স্বামী সোহাগ মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন। এর কিছুদিন পর গৃহবধূ মৃত বাচ্চা প্রসব করেন এবং শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকে।

এ সময় কোন ধরনের চিকিৎসা না করে গৃহবধূর অনিচ্ছায় স্বামী সোহাগ গত ১৮/০৮/২০২০ইং তারিখ সন্ধ্যায় উপরোক্ত লোকজনসহ দুলারহাট বাজারে পল্লী চিকিৎসক নিরব ডাক্তারের কাছে অপারেশন করার জন্য নিয়ে যান।

পল্লী চিকিৎসক নুরুল আমিন ওরফে নিরব ডাক্তার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না হওয়া সত্ত্বেও তার ফার্মেসীর পিছনের রুমে গৃহবধূকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেন।

বর্তমানে গৃহবধূ চরফ্যাসন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পল্লী চিকিৎসক নুরুল আমিন ওরফে নিরব ডাক্তার প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, এ ব্যপারে আমি কিছুই জানিনা।

এ ঘটনায় গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে পল্লী চিকিৎসক নিরব ডাক্তার ও স্বামী সোহাগ সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুলারহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় আব্দুর রশিদের ছেলে মফু (৩২) নামের একজন কে আটক করেছে দুলারহাট থানা পুলিশ।

দুলারহাট থানার ওসি মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-০৭)। মাফু নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরকে গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!