চরফ্যাসনে ড্রাগ অ্যান্ড কেমিস্ট সমিতির সিন্ডিকেটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

এম,নোমান চৌধুরী, চরফ্যাশন প্রতিনিধি  ::

চরফ্যাশনে ওষুধের দোকান মালিকরা এমআরপি (মার্কেট রিটেইল প্রাইস) সিন্ডিকেট করে ক্রেতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রির নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। কমিশন না দিয়ে নামিদামি কোম্পানী ছাড়াও অখ্যাত, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের গায়ে লেখা মূল্যে কিনতে বাধ্য করছেন ক্রেতাদের। করোনা কালীন সময় চরফ্যাশনে বৃদ্ধি পেয়েছে ওষুধ ফার্মেসি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরফ্যাশন বাজারে ওষুধের দোকান রয়েছে ১শত ১০ টি। সকল দোকান মালিক মিলে গঠন করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি। যার সভাপতি রয়েছেন বাচ্চু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পিআই জালাল আহম্মেদ। সমিতি গত দু’বছর পূর্বে সম্মেলনের মাধ্যেমে এক দরের এমআরপি মূল্যে সকল ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। কোন দোকান মালিক এ আইন ভঙ্গ করলে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ইতিপূর্বে অসংখ্য দোকান মালিককে দণ্ডিত করেছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। সমিতির এমন মনগড়া সিদ্ধান্তে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে দোকান মালিকরা আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, নামমাত্র পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে, ড্রাগ লাইসেন্স ব্যতীত অসংখ্য মালিক ওষুধের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রশাসনের নাকের ডগায়। অধিকাংশ ফার্মেসিতে হরহামেশাই বিক্রি হচ্ছে আয়ুর্বেদিক, ভেজাল, নিম্নমানের বা নামসর্বস্ব কোম্পানির ওষুধ। যা ক্রয় করা হয়েছে শতকরা ৫০ থেকে ৬০ পারসেন্ট মূল্য কমে। কিন্তু ক্রেতাদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে এমআরপি অর্থাৎ ওষুধের গায়ে লেখা মূল্যে। ভেজাল ওষুধ চেনার জন্য একটি ফার্মেসি দোকান মালিকের শরণাপন্ন হয়ে দেখা যায় স্কয়ার কোম্পানির সেকলো! ওষুধের বক্স, পাতা, ওষুধ, কোম্পানি নাম ও মূল্য হুবহু একই। শুধুমাত্র ক্যাপসুলটি ভাঙার পর দেখা যায়, ভেতরের দানা বা পাউডার গুলো দু’টা দুই রংয়ের। যা সাধারণ ক্রেতাদের চেনার প্রশ্নই ওঠে না।

চরফ্যাশন পৌর শহরের সদর রোড, থানা রোড, হাসপাতাল রোড, দুলারহাট, শশীভূষণ, দক্ষিণ আইচা থানা সদরে করোনা কালীন অর্ধশতাধিক ওষুধ ফার্মেসির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওষুধ বিক্রেতাগণ কেমিস্ট সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই ওষুধ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওষুধ ক্রেতা পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা ও মা কিডনি, ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগী। পরিবারে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। আগে কিছু টাকা ছাড় পেয়ে সাশ্রয় হতো। কিন্তু এ ভাবে এমআরপিতে ওষুধ বিক্রি করে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা চরফ্যাশন কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির এমন কালো আইনের প্রতি নিন্দা জানাই। সাথে সাথে উক্ত আইন বাতিল এবং ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি বন্ধে চরফ্যাশন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তথ্য হিসাবে দেখা যায়, চরফ্যাশনের ফার্মেসিগুলোতে এক রেট এমআরপি বাণিজ্যে যদি দোকান প্রতি দৈনিক মাত্র ২শ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেয় তাহলে ২২ হাজার টাকা, মাসে হবে ৬ লাখ ৬০ হাজার, আর বছরে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। শতকরা ১০০% ওষুধ ক্রেতাদের দাবি, চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে এক রেটে এমআরপি বাণিজ্য বন্ধ করে, সাধারণ ক্রেতাদের ওষুধ ক্রয় ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানানো হয়।

 

Sharing is caring!