চরফ্যাসনে খাদিজা হত্যা মামলা সন্দেহের তীর বাবা ও ফুফুর দিকে

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

এম,নোমান চৌধুরী,চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি::

ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌরসভা দক্ষিণ ফ্যাসন ১নং ওয়ার্ডে উদ্ধার হওয়া মৃত যুবতী জাহানপুর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের ফারুক মিয়ার মেয়ে খাদিজা। মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহের তীর বাবা ও ফুফুর দিকে।

জানাগেছে, পিতা ও ফুফু মিলে ১২বছর বয়সে মেয়েটিকে জোর পূর্বক বিয়ে দিয়েছেন ঢাকার এক বিবাহিত পুরুষের সাথে।

স্বামী ছিলেন বয়স্ক ও সেই স্বামীর ঘরে একটি ৭ব ছরের মেয়েও আছে তার। দেখতে সুন্দর ও লম্বা মেয়েটি স্বাভাবিকভাবে বয়স্ক ও পূর্বের সন্তান থাকা স্বামীর সাথে সংসার করতে চায়নি কখনো। কোন প্রকারেই মেনে নিতে পারেনি বয়স্ক স্বামী কে। এজন্য মেয়েটিকে আজ লাশ হতে হলো।

মেয়েটির “মা” নেই। তার মাকে পিতা ফারুক অনেক আগেই ডিভোর্স দিয়েছিলেন। মেয়ের সাথে মায়ের কোন সম্পর্ক তৈরি করতে দেননি পাষণ্ড পিতা৷
মেয়েটির গার্ডিয়ান অর্থাৎ বাবা ও ফুফু তাকে জোর পূর্বক স্বামীর বাসায় ঢাকায় পাঠালে সে স্বামীকে না বলে চরফ্যাশনে চলে এসেছে অনেকবার। তবে মেয়েটির চরফ্যাশনে কারো সাথে সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসকল ঘটনায় মেয়েটির বাবা তার মান-সম্মানের ভয়ে মেয়েটিকে অনেক দিন যাবত মধ্যযুগীয় কায়দায় পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন।

১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে চরফ্যাশন সদর রোডের ফল ব্যবসায়ী অনেকেই দেখেছে মেয়েটিকে শিকল দিয়ে বেধে রিকশায় করে দুই লোককে অন্যত্র নিয়ে যেতে। মেয়েটি চিৎকার করছিল। পরবর্তীতে ১২সেপ্টেম্বর বিলের মধ্যে লাশ পাওয়া যায় তার।

উল্লেখ্য, ১২ সেপ্টেম্বর তার লাশ পাওয়া গেল চরফ্যাশনে পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ ফ্যাসন গ্রামে তার ফুফুর বাড়ির কাছে বিলের মধ্যে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ভোলায় প্রেরণ করা হয়েছে।

রিপোর্ট আসলে বাকী তথ্য মিলবে বলে আশা করছে চরফ্যাসন থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে চরফ্যাসন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন মিয়া জানান, অজ্ঞাতনামা কয়েক জনকে আসামী করে হত্যা মামলা করা হয়েছে (মামলা নং -৭)। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে তবে মেয়ের বাবা এবং ফুফুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

Sharing is caring!