চরফ্যাশনে বিশেষ বরাদ্দের ২ মেট্রিক টন চাল নিয়ে নয় ছয়

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

এম,নোমান চৌধুরী, চরফ্যাশন প্রতিনিধি ::

জেলা প্রশাসন কর্তৃক দেয়া ২মেট্রিক টন বিশেষ বরাদ্দের চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের নুর মদিনা হাফেজি মাদ্রাসা এতিমখানা ও জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দিরের নামে আসা দুই মেট্রিক টন চাল বিক্রি করে দেয় মাদ্রাসা ও মন্দির কমিটি।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় উপজেলা প্রশাসন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এসময় রসুলপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড হাজিরোড এলাকার বাসিন্দা সেলিমের বসতঘর থেকে ১২শ কেজি চাল (৪০ বস্তা) জব্দ করা হয়।
জানা যায়, জেলা প্রশাসন ওই মন্দির ও মাদ্রাসা এতিমখানার জন্য ২মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিলে মাদ্রাসা ও মন্দির কর্তৃপক্ষ টন প্রতি ৩০ হাজার করে মোট ৬০ হাজার টাকায় উপজেলা খাদ্য অফিসের নিরাপত্তা কর্মী সাজ্জাদের মাধ্যমে চালগুলো শশীভূষণের মুদি ও চাল ব্যবসায়ী বাবলুর কাছে বিক্রি করে দেয়।

এবিষয়ে শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দিরের সম্পাদক গোপীনাথ ধোপী জানান, মন্দিরের সংস্কার উন্নয়নের জন্যই তাদের এক মেট্রিক টন চাল ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে শশীভূষণ নুর মদিনা হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ মাওলানা মাইনুদ্দিন কর্তৃক চাল বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।

এঘটনায় শশীভূষণ খাদ্য গুদামের রেজিস্ট্রার খাতা তদন্ত করলেও ওই গুদাম থেকে চাল দেয়া নেয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসময় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয়রা বলছেন, খাদ্য অধিদফতরের ‘বিলি আদেশ’ ডিও’তে ২১অক্টোবর মন্দির ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চাল নেয়ার তথ্য থাকলেও গুদামের রেজিস্ট্রার খাতায় কেনো তা উল্লেখ করা থাকবে না।

এবিষয়ে দায়িত্বরত খাদ্য কর্মকর্তা (এলএসডি) কমল গোপাল দে বলেন, জেলা প্রশাসনের বিশেষ বরাদ্দের চাল অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সকলের কাছে না পৌঁছানোয় তা রেজিস্ট্রার খাতায় উল্লেখ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, দুই মেট্রিক টন চালের মধ্যে ১২শ কেজি (৪০বস্তা) চাল জব্দ করা হয়েছে। বাকি ৮শ কেজি চাল উদ্ধার করা হবে। মন্দির কর্তৃপক্ষ উন্নয়ন সংস্কারের জন্য ওই চাল বিক্রি করেছে বলে আমাকে জানান।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মাওলানা মাইনুদ্দিনকে খুঁজে না পাওয়ায় পুরো বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় হবে।

Sharing is caring!