চরফ্যাশনে বিএনপির দু’গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সংঘর্ষ : আহত-২০

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

নোমান চৌধুরী, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি ॥

চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের বিভক্ত কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপি নেতা আলম- নয়ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শরীফ পাড়ার বিএনপির অফিস কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের বাসভবনের সামনে সংঘর্ষ হয়।
ঘটনার পরপরই চরফ্যাশন থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

জানাযায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে চরফ্যাশনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আলম-নয়নের অনুসারীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত ছিলেন। নেতৃত্বের টানাপোড়নে জড়িয়ে ছিল চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি।

এরই মধ্যে চরফ্যাশন ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় ২০১৭ সালে। ৬ বছর অতিক্রম হওয়ার পর চলতি বছরের ১৭ জুলাই চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলমের সুপারিশকৃত ছাত্রদলের চরফ্যাশন উপজেলা, পৌর শাখা ও সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রদল কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এর পরে গত ১৮ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন সুপারিশকৃত ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হাওলাদার স্বাক্ষরিত চরফ্যাশন উপজেলা, পৌর শাখা, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পরপরই ক্ষুব্ধ বিএনপির অপর গ্রুপের নেতা নাজিম উদ্দিন আলম ও নুরুল ইসলাম নয়নের নেতা কর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়। দুই নেতার দেয়া ছাত্রদলের বিভক্ত কমিটি নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন গ্রুপের অনুমোদিত কমিটির পরিচিতি সভা চলছিল। আকস্মিকভাবে বগি দা, লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের সুপারিশকৃত ছাত্রদলের কমিটির নেতা কর্মীরা নয়নের বাসভবনে সভা চলাকালে হামাল চালান। ঘণ্টাব্যাপী উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হামলা হয়।

এতে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেলের বাসায় ভাংচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলার সময় আলম গ্রুপের ছাত্রদল নেতা কর্মীরা নয়ন গ্রুপের তোপের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্রদলের ২০/২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। তবে মামলার ভয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হসনি বলে সূত্রে জানাগেছে।

ভোলা জেলা কমিটির অনুমোদিত চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব অনিক কাজী জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদকের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এতে জেলা কমিটির দেয়া অনুমোদিত কমিটিই বৈধ। উপজেলা বিএনপি ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা ও অনুমোদন দিতে পারেনা।

এদিকে চরফ্যাশনের সুধীমহলের অভিমত দীর্ঘ সাড়ে ১০ বছর ছিলো চরফ্যাশনের রাজনৈতিক শান্ত পরিবেশ।
শুক্রবার সন্ধ্যার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে ২০০১ সালের পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন উচ্ছুঙ্খল পরিবেশ জনগণ আবার নতুন করে দেখতে পায়। চরফ্যাশনে বর্তমানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে এধরনের অশান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার জন্য বিভিন্নমহল অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।

চরফ্যাশন থানার ওসি মোঃ মনির হোসেন জানান, চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের পরপরই থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানায় কোন পক্ষের অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।