চরফ্যাশনে ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের কিশোরী মা হলেও বাবা হয়নি কেউ

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

এম,নোমান চৌধুরী,চরফ্যাশন প্রতিনিধি ॥ চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার নীলকমল ইউনিয়নে ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের কিশোরী মা হলেও বাবা হয়নি কেউ। চরযমুনা গ্রামের নিজ বাড়িতে গত ৭ জানুয়ারী ওই কিশোরী কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। প্রতিবেশী যুবক সাইমুনের সাথে প্রেম প্রষয়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় মাতাব্বরদের সহযোগিতায় ধর্ষকের পরিবারের সদস্যরা প্রহসনের বিয়ের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ধর্ষক সাইমুনের সাথে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপণ করে তার পরিবার।

 

বিয়ের আয়োজনের অজুহাতে কৃষক কন্যার পরিবারের কাছ থেকে বিয়ে ছাড়াই ১লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ধর্ষক সাইমুনের বাবা মোস্তফা ও স্থানীয় মাতব্বররা। এবং গরু – ছাগল জবাই করে ছেলের পক্ষের ১১০ জন লোককে খাওয়ালেন মেয়ের বাবা। এর পরে শুরু হয় সময় ক্ষেপণ। এভাবেই কেটে যায় ৬ মাস।
এদিকে গত ৭ জানুয়ারী ওই কিশোরী কন্যার কোল জুড়ে আসে কন্যা সন্তান। মায়ের কোল জুড়ে বেড়ে উঠলেও শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে সংকট ঘণীভূত হয়েছে। কিশোরীর সন্তানের জন্ম দিলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সটকে পড়েন স্থানীয় মাতব্বররাসহ ধর্ষক সাইমুনের পরিবার।

 

এঘটনার গত সোমবার ভিক্টিমের বাবা বাদী হয়ে ভোলা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে ধর্ষক সাইমুনসহ তিন সহযোগীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ভিক্টিম কিশোরীর বাবা ও মামলা সূত্রে জানাযায়, নীলকমল ইউনিয়নের চরযমুনা গ্রামের প্রতিবেশী মোস্তফার ছেলে সাইমুনের সাথে তার ১৪ বছরের কিশোরী কন্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবং বিয়ের প্রলোভনে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে সাইমুন। অবৈধ সম্পর্কে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় হলে ধর্ষক সাইমুনের বোনের জামাতা নীলকমল ইউনিয়নের কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালামের ছেলে মোঃ আনাছ বিষয়টি গোপন রাখার জন্য কিশোরীর পরিবারকে চাপ দেন।

 

এবং সাইমুনের সাথে কিশোরী কন্যার বিয়ের আশ্বাস দেন। ভিক্টিমের পরিবারের সাথে বিয়ের সমঝোতায় ধর্ষক সাইমুনকে বেকার দাবী করে তার পরিবার ও মাতব্বররা ভিক্টিমের বাবার কাছে দুই লাখ টাকা দাবী করেন। মিথ্যা বিয়ের আসরে নগদ যৌতুক হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন সাইমুনের পরিবার ও মাতব্বররা। বিয়ের মজলিশে তার কন্যার প্রাপ্ত বয়স হয়নি এমন অজুহাতে ওই খানেই আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্ত করেন সাইমুনের পরিবার। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ে হবে এমন মিথ্যা নাটকীয়তায় ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া অপচেষ্টায় কেটে যায় অর্ধবছর। এরই মধ্যে গত ৭ জানুয়ারী ধর্ষণের শিকার ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কন্যা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। ধর্ষনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী সন্তান জন্ম দেয়ায় পিতৃপরিচয় নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে গ্রাম জুড়ে। কে হবে কন্যা সন্তানের বাবা। অভিযুক্ত সাইমুন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য জানাযায়নি।

 

তবে অভিযুক্ত সাইমুনের বোনের জামাতা শাহেদ জানান, ষড়যন্ত্রমূলক আমার শ্যালককে ফাঁসানো হয়েছে। ডিএনএ টেস্ট করলে আসল রহস্য পাওয়া যাবে। দুলারহাট থানার ওসি মোঃ মোরাদ হোসেন জানান, দুলারহাট থানায় আমি ৪ মাস হলো যোগদান করেছি। এই বিষয়টি আমার জানা নেই। তৎকালীন ওসি হয়তো বিষয়টি জানতে পারেন। তবে বিষয়টি এখন গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।