প্রশাসন কর্তৃক ভূমিহীনদের ঘর ভেঙ্গে নেয়ার নির্দেশ

চরফ্যাশনের ঢালচরে নদীভাঙ্গনে আশ্রয়িতদের আহাজারী

প্রকাশিত: 11:04 AM, April 28, 2020

আবদুল্লাহ আল নোমান চৌধুর্ চরফ্যাশন(ভোলা) থেকে
চরফ্যাশন উপজেলার বিছিন্ন এক দ্বীপের নাম ঢালচর। চারপাশে নদী বেষ্টিত ঘেরা বিচ্ছিন্œদ্বীপ ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদ। ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ৫টি ওয়ার্ড নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীতে বিলীন হওয়ার প্রায় ৫শতাধিক অসাহয় পরিবার মাথা গোঁজার ঠাই হিসাবে আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি খাস জমি ঢালচরের তারুয়ার চরে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘর ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সকল পরিবার কোথায় অবস্থান নিবে কোথায় তাদের ঠিকানা এমন প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢালচর ভেঙ্গে এককিলোমিটার পূর্বে হাজার হাজার একক জমি নিয়ে চর জেগেছে। নাম রাখা হয়েছে পূর্ব ঢালচর। নদী ভাঙ্গন কমলীত মানুষগুলো সেখানে গিয়ে বসবাসের জন্যে কাচাঁঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছে। মঙ্গলবার ওই চরে গেলে শতশত ভূমিহীন পরিবারের আহাজারি আর কান্নায় ভেঙ্গে পরে। তাদের অভিযোগ ভোলা জেলা প্রশাসক ওই ভুমিহীনদের ঘর ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার।
অসহায় ভূমিহীন মাথা গোঁজাবার ঠাই পেতে বাঁধা-মামলা উপেক্ষা করে কিছু ঘর নির্মাণ করলেও ভেঙ্গে দেয়ার পায়তারা করছে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ। কয়েক হাজার একর জমি সরকারি খাসঁ খতিয়ানে থাকলেও বনবিভাগ দাবী করেছেন তাদের জমি। ফলে একদিকে জমি অনাবাদী রয়েছেন অন্য দিকে অসহায় নদী ভাঙ্গার কবলিত পরিবারদের আহাজারি বারছে। কিছু হলে বনবিভাগ মামলা-হামলা জেল জুলুমের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
ঢালচরের ভূমিহীন পরিবারের দাবী রহিঙ্গারা যদি বাংলাদেশে বসবাস করতে পারে সেখানে আমাদের জায়গা ঢালচর ভেঙ্গে পূর্বঢাল জেগে উঠা হাজার হাজার একর জমিতে কেন আমরা বসবাস করতে পারবো না প্রশ্ন ডিসি সাহেবের কাছে? প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ঘোষণা একশতাংশ জমিও চাষাবাদ বিহীণ থাকতে পারবে না। তাই চরে স্থায়ীভাবে বসবাস করে জমি চাষাবাদে অনুমতি পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তেক্ষেপ কামনা করছেন ঢালচরবাসী।
বিছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের স্থায়ী বাসিন্দা পারুল বেগম বলেন, বুড়া-গৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদী ভাঙনের ফলে ভিটেসহ সব হারিয়ে পথে বসেছি। নিরুপায় হয়ে পূর্ব ঢালচর নামক চরে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বনবিভাগের বাঁধার সম্মুখিন হয়েছি।
আরেক অসহায় রহিমা বেগম বলেন, আমাগো জায়গা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আংগো ভিটের মাটি নদী নিয়া বালুর দ্বীপ(তারুয়া)এবং পূর্ব ঢালচর নামক চর বিশাল চর জাগছে। হাজার হাজার একর জমি খালি পড়ে রয়েছে। ফরেস্ট অফিসারেরা আংগোরে সেখানে বসবাস করতে দেয়না। বৃদ্ধ জেলে আবু তাহের বলেন, আমার ৩টি মেয়ে নিয়ে নিজস্ব ভিটেমাটি নদী লইয়া গেছে। চরজাগা তারুয়ার দ্বীপ চর নামক স্থানে ঘর নির্মাণ করেছি। আমরা আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সরকার যাতে আংগো বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয়।
ঢালচরের ভূমিহীন জামাল, জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা মাথা গুজাবার জায়গা পাই না আর তারুয়াদ্বীপ ও পূর্ব ঢালচরের হাজার হাজার একক জমি জনশূন্য অবস্থায় পরে আছে। আমোগো জায়গা ভেঙ্গে চর জাগছে। তাই আমরাই ও চরের বসবাস করতে চাই। প্রয়োজনে আমরা অশ্রয়ের জন্যে যুদ্ধ লাগলে করব।
উপজেলার বিছিন্নদ্বীপ ঢালচর ইউপি সদস্য মোস্তাফা কমান্ডার বলেন, আমাদের দুঃখ দুর্দশার কথা প্রায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে তারা সবই জানে। উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বারবার বলা হয়েছে। বিগত ৪টি বছর ধরে একটি খাল খননের দাবী করে আসছি। আজ হাজার হাজার নৌকা খালের অভাবে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। আমার ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ড নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আঁধা কিলোমিটার নদীর পরেই পর্যটক এলাকা তারুয়া (বালিরদ্বীপ) এবং পূব ঢালচর নামক দুইটি চর জেগেছে। কয়েক হাজার একর জমি খালী পড়ে রয়েছে। কোন বনায়ন হয়নি। চাষাবাদে উপযোগী। ভাঙ্গন কবলীত ওয়ার্ডের অসহায় মানুষগুলি একটু জায়গার জন্য হাহাকার করছে।
ঢালচর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম হাওলাদার বলেন, আমি বনবিভাগের দাবীর মুখে আদালত করেছি। মহামান্য আদালত থেকে জনগনের পক্ষে দো-তরফা সূত্রে প্রায় ৩হাজার একর জমি রায় প্রদান করেছেন। তারপরও বন বিভাগে বিভিন্ন অজুহতে অসহায় মানুষ যাতে বসবাস করতে না পারে সে জন্য মামল –হামলা করেই যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক আমাকে ওই স্থান থেকে অসহায়দেরকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আমি তাদেরকে সরিয়ে যেতে বললে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করে। তাই তারুয়া দ্বীপ ও পূর্ব ঢালচরে মানুষ বসবাসের সু-ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে ঢালচর বাসীর পক্ষ থেকে আমি জোড় দাবী জানাচ্ছি।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, আমি খাস জমিতে থেকে ঘর ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ৮শতক জমিতে অন্যত্র ঘর করে দেয়ার জন্যে বলেছি।
সহকারী কমিশনার ভূমি শাহীন মাহমুদ বলেন, আমি বিষয়টি জানিনা তবে জেনে আপনাকে জানাবো।
ভোলা জেলা প্রশাসক মহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক –বলেন, সরকারি খাস জমিতে ঘর উত্তোলন করা হয়েছে আমি ও উপজেলা প্রশাসন কেই জানেনা। চরফ্যাশন সহকারী কমিশনার ভূমিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সরেজমিন গিয়ে অবগত হলে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া হবে।

Share Button