ঘর দেয়ার নামে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাথে আ’লীগ নেত্রীর প্রতারণা

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥
বরিশালে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সরকারি বরাদ্দের ঘর দেওয়ার কথা বলে সাদা স্ট্যাম্পে প্রতিবন্ধী ছেলে ও তার মায়ের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেত্রী রিফাত জাহান তাপসির বিরুদ্ধে। একই সাথে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছ থেকে ঘর দেয়া বাবদ চার লক্ষ টাকা দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিলন হাওলাদারের প্রতিবন্ধী ছেলে মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিফাত জাহান তাপসীর বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম। যার মামলা নম্বর ৬৮। এ মামলায় তাপসীর স্বামী মনিরুজ্জামান মনির হাওলাদারকেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৪ নম্বর সাক্ষী রাখা হয়েছে।

এদিকে শনিবার প্রেসক্লাবের হল রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম হাওলাদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘চলতি বছরের গত ২৯ জুলাই মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে আমাকে ও আমার ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগমকে সরকারি বাসভবনে ডেকে নেন সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিফাত জাহান তাপসী। সেখানে আমাদের কাছ থেকে একশত টাকার দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর পেতে কোন স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর লাগে না। পরে তারা ওই স্বাক্ষরকৃত ষ্ট্যাম্প ফেরত চাইলে তা না দিয়ে উল্টো চার লক্ষ টাকা দাবি করেন তাপসী। আর এ টাকা না দিলে জেলার উজিরপুরে কালির বাজার নামক স্থানে থাকা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি ওই সাদা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দেন তিনি। আর এ কারণে তারা স্ট্যাম্প ফেরত চেয়ে তাপসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ নজরুল ইসলাম হাওলাদার আরো বলেন, আমাদের উজিরপুরের কালির বাজার এলাকায় থাকা সামান্য কিছু সম্পত্তি আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান প্রতারনা ফাঁদ তৈরি করেন। তিনি বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে হুমকী দিয়ে ওই জমি বিক্রি করতে চাচ্ছেন। ওই জমিটুকু বিক্রি করে দিলে আমরা পথে বসবো।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে বাবুগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। প্রতিবন্ধী ওই ছেলেটির বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তারা নিয়মিত ভাতাও পাচ্ছেন। ওদের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা দুঃখজনক। তাই আমরাও এর ন্যায় বিচার দাবি করছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রিফাত জাহান তাপসী মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার প্রতিবেশী এবং চিহ্নিত অপরাধী সেলিম শরীফ ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সে একাধীক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘সেলিম শরিফ’র বিরুদ্ধে হত্যা এবং ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে আমাকেও নষ্ট করতে চেয়েছিলো। সেটা না পেরেই এখন মুক্তিযোদ্ধা মৃত সেলিম হাওলাদারের পরিবারকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার যে অভিযোগ করেছে তার কোন সত্যতা নেই। কারণ ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি ঘর পেতে সঠিক সময় আবেদন করেনি। বরং আমি ঘর দেয়ার কথা জানতে পেরে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ হালদার এর সহযোগিতায় তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। বিনিময় তাদের কাছ থেকে একটি টাকাও নেইনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নজরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় চিকিৎসার নাম করে আমার কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছে। সে জমি বিক্রি করে আমার টাকা পরিশোধ করবে বলে ওয়াদা করেন। এখন যখন পাওয়া টাকা চেয়েছি তখন ওই টাকা না দিতে সেলিম শরীফের প্ররোচনায় পড়ে নজরুল এমন মিথ্যাচার করছে। তাছাড়া ঘর দেয়ার বিষয়টি অনেক আগের ঘটনা। অথচ এখন বিষয়টি নিয়ে নাটক সাজিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি তার।

Sharing is caring!