ঘরবন্দী জীবনের ইতি টেনে কুয়াকাটায় সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা প্রতিনিধি  ::

ঈদুল আযহা পরবর্তী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। করোনা দুর্যোগকে পেছনে ফেলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা সৈকত। বর্ষণমুখর ঈদের চতুর্থ দিনেও হাজার হাজার পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়ে এক অনন্য মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে কুয়াকাটা। ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে সমুদ্রে হৈ হুল্লোর, সমুদ্র¯ম্লান, দৌড় ঝাঁপ ও উম্মাদনা। পূর্ণিমার জো থাকায় উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের সাথে মিতালীতে মাতোয়ারা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। নেচে গেয়ে দীর্ঘ দিনের ঘরবন্দী মানুষগুলো মিলিত হয়েছেন প্রাণের স্পন্দনে। সব কিছুই মিলিয়ে দীর্ঘ দিনের সুনসান নীরবতা ভেঙে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পুনরায় ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

সৈকতের দর্শনীয় স্থানগুলোতে বীচ বাইকে ঘুরে দেখছে ভ্রমণ পিপাষু নানা বয়সের মানুষ। ওয়াটার বাইক নিয়ে সমুদ্রে গভীরে এ্যাডভাঞ্চার প্রিয়দের দাপিয়ে বেড়ানো ছিল রোমাঞ্চকর। এমন দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সৈকতে নতুন যুক্ত হওয়া ঘোড়ার গাড়িতে চেপে শিশু ও বয়স্করা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে সমুদ্র ও প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করছে। কেউ কেউ আবার চার চাকা বিশিষ্ট বীচ বাইকার নিয়ে জলকেলিতে মিলিত হয়েছে।

সুন্দর বনের পূর্বাংশ খ্যাত টেংরাগিরি বনাঞ্চল, লেম্বুরবন, গঙ্গামতির লেক, জাতীয় উদ্যান, লাল কাঁকড়ার চর, বৌদ্ধ বিহার ও রাখাইনপল্লীতে অসংখ্য পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। তবে যুবক যুবতীরা দলবেধে ৩০-৪০টি মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমুদ্র সৈকতে এসেছে। আবাসিক হোটেল মোটেলে রয়েছে চাহিদা মাফিক বুকিং। বেচা কেনা বেড়েছে খাবার হোটেল, শামুক ঝিনুকের দোকান, শুঁটকি মার্কেট, বার্মিজ পণ্যসহ পর্যটক নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

করোনার প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘ সময়ে বন্ধ থাকার পর এই প্রথম পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ চাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে, এমন দাবী পর্যটন ব্যবসায়ীদের। সমুদ্রের সান্নিধ্যে এসে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পেরে খুশী পর্যটকরা।

সমুদ্রের আসল রূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে এ বর্ষা মৌসুমকেই বেছে নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আফজালুল আহম্মেদ টিপুসহ তার সঙ্গীয় কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে মোটর বাইক নিয়ে সোমবার বিকেলে কুয়াকাটা এসেছেন। উঠেছেন আবাসিক হোটেল রেইন ড্রপে। সমুদ্র ভ্রমণের জন্য তারা বর্ষা মৌসুমকে প্রাধান্য দেন। পর্যটক সানাউল্লাহ আজকের বার্তাকে জানান, উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ ও গর্জন তাদেরকে বিমোহিত করে। তাই ঈদের ছুটিকে উপভোগ্য করতে কুয়াকাটা সৈকতকে বেছে নিয়েছেন তারা।
রাখাইন মার্কেট এলাকার অভিজাত আবাসিক হোটেল কানসাই ইন্ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান আজিকের বার্তাকে জানিয়েছেন, ঈদের দিন থেকেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছেন।

রোববার থেকে ধারাবাহিকভাবে বুধবার পর্যন্ত তার হোটেলের শতভাগ রুমই বুকিং আছে। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমের কারণে অধিকাংশ পর্যটকদের এসি রুমের চাহিদা ছিল- এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন’র সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা গেস্ট হাউজের স্বত্বাধিকারী এম এ মোতালেব শরীফ আজকের বার্তাকে বলেন, পর্যটকদের কুয়াকাটায় টানতে ৩০-৪০ ভাগ ছাড়ে রুম বুকিং দেয়া হয়। এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্তে প্রত্যেক আবাসিক হোটেলে আশানুরূপ রুম বুকিং রয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে করোনাকালীন লোকসান পুষিয়ে অচিরেই লাভের মুখ দেখবেন ব্যবসায়ীরা।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন’র ইনচার্জ সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঈদ পরবর্তী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অগণিত পর্যটকদের নিরাপত্তায় দর্শনীয় স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পর্যটকদের সেবা অব্যাহত রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিল ট্যুরিস্ট পুলিশ।

Sharing is caring!