গ্রামীণ শিল্পীদের মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২০

মামুন হোসেন, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি ॥

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রায় নয় মাস অতিবাহিত করছে বাংলাদেশ। আর এরই মধ্যে ভা-ারিয়া উপজেলার ৬টি শিল্পী সংগঠনের কপালে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। ফলে প্রায় ২০০ জন শিল্পী ( সংগীত শিল্পী,নৃত্য শিল্পী, বাউল শিল্পী ও মিউজিশিয়ান ) এর সকল প্রকার উপার্জন বন্ধ হয়ে পড়েছে । এ কারণে আলস দিন গুনছে তারা। অভাব অনটনের কবলে পড়া শিল্পীরা না পাচ্ছেন কোন সাহায্য আর না পড়ছে কারো কাছে হাত। ফলে হতাশা গ্রস্ত শিল্পী পরিবার গুলো এ পেশা ছেড়ে কেউ কেউ অন্য পেশায় পাড়ি জমিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভাবের ফলে উপজেলার আওয়ামী সাংস্কৃতিকলীগ, আদর্শ , উর্মি, উদায়ন, ড্রীম,বাউল শিল্পীদের মধ্যে অনেকে বর্তমানে কেউ কেউ টেইলার্স মাষ্টার, স্বর্ণকারের দোকানে, ড্রাইভার আবার কেউ মৌসুমি ফল বিক্রয় করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে, জেলা – উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী শুধু মাত্র শিল্পিদের পাশে নামে মাত্র দাঁড়িয়েছে। এ পেশা টিকিয়ে রাখতে তাদের কোন বিশেষ উদ্যোগ নেই।

শিল্পী সংগঠনের সমন্বয়কারী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের ফলে ৬ টি সংগঠনের কর্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। দিনে দিনে এ পেশার লোকজন হারিয়ে যাচ্ছেন। আশঙ্কা রয়েছে কালের বির্বতনে এ শিল্পীরা হারিয়ে যাবেন। সরকারি উদ্যোগ সহ উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুর ইসলামকে পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।

সংগীত শিল্পী জালাল আহম্মেদ, হীরন মুন্সী ও তুহিন তালুকদার বলেন, শিল্পীরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সংসার চালাতেও কষ্ট হচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে সাংস্কৃতিক সচেতন শিল্পী ও সংগঠনগুলো। এ মুহূর্তে সরকারী সাহায্য সহযোগিতা চান তারা।

উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, উপজেলা পর্যায়ে সহযোগিতা করার মতো তহবিলে না থাকার কারণে এই মুহূর্তে তারা শিল্পীদের জন্য কিছু করতে পারছেন না।