গৌরনদী পৌর নির্বাচন বাতিল চেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীর মামলা

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

 

মো. জিয়াউদ্দিন বাবু ॥ অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে গৌরনদী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ আসনে আতিকুর রহমান শামীমকে কাউন্সিলর নির্বাচিত দেখিয়ে তার নাম গেজেটভুক্ত করায় নির্বাচন বাতিল চেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সোহেল ভূইয়াকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২১ পৌরসভা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গৌরনদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি ও বর্তমান সভাপতি এবং কাউন্সিলর প্রার্থী সুমন মোল্লা মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক শায়েলা শারমিন মামলাটির আদেশ দানে পরবর্তী দিন ধার্য্য করেন। আতিকুর রহমান শামীম উপজেলার গোবর্দ্ধন এলাকার মৃত আশ্রাফ উদ্দিনের ছেলে ও সোহেল ভূইয়া উত্তর বিজয়পুর এলকার মৃত শামসুল হক ভূইয়ার ছেলে।

 

মামলা পরিচালনাকারি আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, গত ৩১ জানুয়ারি বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলর পদে সুমন মোল্লা উট পাখি প্রতীকে ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিকুর রহমান শামীম টেবিল ল্যাম্প ও অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সোহেল ভূইয়া ডালিম প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে আতিকুর রহমান শামীম নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করেন। বে-আইনি ও অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে আতিকুর রহমান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন ও সুমন মোল্লার সর্মথক ও এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখান। আতিকুর রহমান নির্বাচন বিধি বহির্ভূত প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেন। এর প্রভাবে ভোট গণনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যাপক কারচুপির আশ্রয় নিয়ে বাতিল হওয়া ৬৬ ভোটের মধ্যে অধিকাংশ বাতিল ভোট সুমন মোল্লার পক্ষে গণনা করেন। সুমন মোল্লা আপত্তি জানালেও কর্মকর্তারা তা কর্ণপাত করেন নাই।

 

এছাড়া সুমন মোল্লার বৈধ ভোট প্রতিপক্ষ আতিকুর রহমান শামীমের লটের মধ্যে ডুকিয়ে তার পক্ষেই গণনা করেন। ফলে সুমন মোল্লা ২৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এঘটনায় একই দিন সুমন মোল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেন। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে আতিকুর রহমান শামীমের প্রার্থিতা বাতিল করা ও নির্বাচনী গেজেট স্থগিত করার আবেদন করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাচন বাতিল, গেজেট স্থগিতসহ ব্যালট পেপার, মুড়িপত্র, বৈধ ভোট, বাতিলকরা ভোট পুনরায় গণনার আবেদন করেন সুমন মোল্লা। কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে না নেয়ায় নির্বাচন বাতিলের মামলাটি দায়ের করা হয়।