খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন, অসুস্থ শতাধিক

প্রকাশিত: ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনায় আমরণ অনশনে থাকা পাটকল শ্রমিকদের অসুস্থতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিকদের আমরণ অনশন চলছে। এর আগে মঙ্গলবার থেকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে শ্রমিকরা এ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

শ্রমিক নেতারা জানান, আগামী ১৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনার কর্মসূচি স্থগিত করার অনুরোধ করেছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।কিন্তু শ্রমিকরা তা মানেননি।

আন্দোলনে থাকা পাটকলগুলো হচ্ছে- ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল, কার্পেটিং জুট মিল ও জেজেআই জুট মিল।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা কাঁথা-কম্বল নিয়ে অনশনে নেমেছি। সমস্যার সমাধান করতে যদি মরতে হয় তবুও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা ঘরে ফিরবে না।’

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, শীতে এবং অনাহারে থাকায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে আমরণ অনশনে থাকা পাটকল শ্রমিকদের পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।রাজশাহী জুট মিলসের সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহীর জুট মিলের শ্রমিক নেতারা জানান, দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলের মধ্যে ১২টি পাটকলের শ্রমিকরা এই আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।এর মধ্যে রয়েছে- খুলনা অঞ্চলের নয়টি, রাজশাহীর একটি, নরসিংদীর একটি এবং চট্টগ্রামের একটি পাটকলের শ্রমিকরা।

Sharing is caring!