খুলছে শিক্ষাঙ্গন


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

করোনার চরম দুঃসময়ে সর্বপ্রথম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কলকাকলি মুখর প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উচ্চশিক্ষার বৃহৎ আঙ্গিনাও ক্রমান্বয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়, ফলে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের গৃহবন্দী করে রাখা ছাড়া বিকল্প কোন পথও ছিল না। ইতোমধ্যে বিশ্বের কয়েকটি জায়গায় স্কুল খুলে দেয়ার পর সেখানে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় পুনরায় তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সময়ের ওপর নির্ভর করাও ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন। পরবর্তীতে করোনা সংক্রমণ নিম্নগামী হলেও সরকার সে অবধি কোন সিদ্ধান্তে আসেনি। সময়ের প্রেক্ষাপটে করোনা প্রতিষেধক টিকা ব্যাধিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। সেটা বাংলাদেশের জন্য একটি শুভ সঙ্কেত, উপহারও বটে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভারত সরকার ২০ লাখ টিকা উপহার হিসেবে পাঠালে ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাসঙ্গিক কর্মবিধি সম্পন্ন করে টিকা দেয়া শুরু হয়। করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কমার সুসময়ে আমরা প্রতিষেধক টিকাও পেয়ে গেলাম। করোনা ছিল প্রধানত রাজধানী কেন্দ্রিক। প্রান্তিক মানুষরা সেভাবে আক্রান্ত হয়নি। বর্তমানে ভ্যাকসিন সম্প্রসারিত করা হলে সারা বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ভারত থেকে আরও টিকা আসার ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়ে গেলে গণহারে প্রতিষেধক প্রদানের সুযোগও তৈরি হয়। প্রবীণ নাগরিকদের প্রাধান্য দিয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধারাও অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে টিকা নিতে পারাটা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য নজির। সঙ্গত কারণেই এবার সরকারী সিদ্ধান্ত জারি করা হয় স্কুল, কলেজ খোলার ব্যাপারে। ৩০ মার্চ প্রাথমিক মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের আবশ্যিকভাবে টিকা নিতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশও সুরক্ষা করতে হবে। এমন নির্দেশনা আসে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। প্রায়ই এক বছর বন্ধ থাকার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায়ও পড়েছে এক প্রকার দূষণ পরিবেশ। সেসব জঞ্জাল সাফ করতে হবে জীবাণুনাশক ওষুধের মাধ্যমে। এছাড়া চারপাশের অবরুদ্ধতার কঠিন বলয়কে বিশুদ্ধ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সুরক্ষিত করতে হবে পুরো পরিবেশকে দূষণমুক্ত করে। তবে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় আপাতত খুলছে না। এখানেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে পুরো ক্লাস করবে। নবম ও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২ দিন করে ক্লাসে উপস্থিত থাকবে। আর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস করবে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই বিধি মোতাবেক নিয়মিত শ্রেণী পাঠদান চলবে। অনলাইনভিক্তিক ক্লাসও চলার নির্দেশনা এসেছে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। নীরব নিস্তব্ধ শিক্ষাঙ্গন পুনরায় শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখর হবে। এটা জাতির জন্য এক চমৎকার শুভ বার্তা। অনেক দেশে এখনও করোনার টিকা পর্যন্ত পৌঁছায়নি। স্কুল-কলেজ খোলারও কোন সম্ভাবনা থাকছে না। আমরা সেখানে ক্রমান্বয়ে উচ্চশিক্ষার পাদপীঠও খুলে দিতে পারব। ইতোমধ্যে তা ঘোষিতও হয়েছে। ঈদের ছুটির পর ২৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে। তার আগে ১৭ মে হল খোলার নির্দেশ আছে। এখানেও সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনকে আবশ্যকীয় করা হবে। শিক্ষার্থীদেরও জরুরী ভিত্তিতে ভ্যাকসিন নিতে হবে। সেসব নিশ্চিত করেই অনুপ্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। উন্নয়নশীল পর্যায়ে এসে যাওয়া বাংলাদেশ এখন যথার্থ অর্থেই তার আগামীর যাত্রার শুভ সূচনা করবে, এমন প্রত্যাশা সকলের।