খালে বাঁধ দেয়া অনিশ্চিত : কলাপাড়ায় সবজিসহ বোরোর আবাদ ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥

অভ্যন্তরীণ পাখিমারার খালে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে স্লুইস গেটের সামনে বাঁধ দিতে না পারায় সবজিসহ বোরোর আবাদ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। আর্থিক সঙ্কটের কারণে সবজির গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা, মজিদপুর, এলেমপুরসহ দশ গ্রামের অন্তত তিন হাজার কৃষক এমন অনিশ্চয়তার কবলে পড়েছেন। কৃষকরা জানান, ফি বছর উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে তারা স্লুইসের সামনের খালে মাটির বাঁধ দেয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছিলেন।

 

কিন্তু এ বছর আবেদন করলেও আর্থিক সহায়তা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। মাত্র ৫০ হাজার টাকার সঙ্কটে তিন হাজার কৃষকের সবজি চাষসহ বোরো আবাদে অনিশ্চয়তার শঙ্কায় পড়েছেন। চাষীরা জানান, এই বছর আমফানসহ তিন দফা অতি বৃষ্টির কারণে শীতকালীন আগাম শাকসবজির ক্ষেত পচে গেছে। ফলে তাদের কাছে কোন অর্থ নেই। আবার বীজ কেনার মতো সঙ্গতি নেই। এরপরে নিজেরা চাঁদা দিয়ে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে মাটির বাঁধ দিবেন এমন সঙ্গতি তাদের নেই। খেয়ে পড়ে দিন কাটানো এখন অনিশ্চয়তায়।

 

এদিকে বোরো আবাদের প্রস্তুতির পাশাপাশি সবজির আবাদ করতে ধারদেনায় কাহিল কৃষকরা। শতকরা ৯০ জন চাষী শাকসবজির আবাদ করেন কুমিরমারাসহ পাঁচটি গ্রামে। এখন সাগর ও নদীতে পানি লোনা হয়ে গেছে। যুগীর খালের স্লুইস গেটের সামনে বাঁধ না দিলে লোনা পানি অভ্যন্তরীন পাখিমারার খালে মিশে কৃষকসহ সকল মানুষের সর্বনাশ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোনা পানির কারনে কুমিরমারা, মজিদপুর, সোনাতলা, পাখিমারা, নাওভাঙ্গা, গামইরতলা, এলেমপুর, নেয়ামতপুর, ইসলামপুর, গুটাবাছা গ্রামের চাষীদেও বোরোসহ সবজির চাষ ভেস্তে যাবে।

 

চাষাবাদ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি রান্নাসহ ব্যবহারের এবং গবাদিপশুর খাবারের মিঠা পানি নষ্ট হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কা এখন এসব কৃষকের আতঙ্কে পরিণত হয়ে গেছে। দুশ্চিন্তায় তাঁদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কেননা এসব চাষী ১২ মাস শাকসবজির আবাদ করেন। করেন আমন-আউশ ও বোরোর আবাদ। আর এ বছর ধানের দাম ভাল থাকায় অধিকাংশ কৃষকের বোরো চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। অনেকে বীজতলা করছেন। কিন্তু যুগীর স্লুইস খালের অগ্রভাগে বাঁধ দিতে না পারলে সব ভেস্তে যাবে, এমন শঙ্কায় কৃষক আর্থিক যোগানের জন্য দৌড়াচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। তাঁদের জীবিকার এই সঙ্কট সমাধানের জন্য বুধবার কলাপাড়া পৌরশহরে মানববন্ধন সমাবেশ করেছেন। দিয়েছেন ইউএনও ও কৃষি অফিসারের কাছে স্মারকলিপি।

 

প্রবীন কৃষক সুলতান গাজী বলেন, ‘মোগো নিজেগো দ্বারে প্রত্যেক বছর এই সময় সবজি বেচা টাহা থাহে। এই বছর নাই। কারণ বৃষ্টিতে শাকসবজি সব পইচ্যা এহন সবাই নিঃস্ব। ধার-কর্জও মেলে না। তারপরও সবজির ক্ষ্যাত করা ও বোরো চাষের জন্য বীজ কেনতে অইবে। এই মুহূর্তে টাহার যোগান না পেলে স্লুইসের সামনে বাঁধ না দেলে কমপক্ষে তিন হাজার কৃষক পরিবারের আয়-রোজগার শ্যাষ অইয়া যাইবে।’ কুমিরমারা গ্রামের সকল চাষীর একই দশা। জাকির গাজী জানান, ৫০ হাজার টাকার যোগান দেলে তিন হাজার কৃষক পরিবার অন্তত পাঁচ কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন করতে পারবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা, পাখিমারার খালে একবার লোনা পানি ঢুকলে এর চরম খেসারত দিতে হবে সকল কৃষকের। সবজি চাষের সর্বনাশ হয়ে যাবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, তিনি কৃষকের আর্থিক সঙ্কটের বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছেন।