ক্রিকেট ছেড়ে বর্গাচাষ করছেন বরিশালের আবু হানিফ, বিক্রি করছেন থ্রি পিস

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

অনলাইন বার্তা :: প্রায় চার মাস ধরে খেলা নেই। অন্য অনেক পেশাজীবীর মতো আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে ক্রিকেটারদেরও। বিশেষ করে যেসব ক্রিকেটার বিসিবির বেতনকাঠামোর বাইরে আছেন এবং যাঁদের আয়ের মূল উৎস নিচের দিকের লিগ বা জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট, আর্থিক সংকটটা তাঁদেরই বেশি। সংসারের খরচ জোগাতে তাঁদের কেউ কেউ তাই চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

ঈদের আগে বিসিবির পক্ষ থেকে ক্লাব ক্রিকেটারদের এককালীন আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে আর কত দিন চলে! ওদিকে করোনার প্রকোপ কমছে না বলে শিগগির ক্রিকেট মাঠে ফেরার সম্ভাবনাও নেই। ঢাকা, ঢাকার বাইরে—সব জায়গায়ই তো খেলা বন্ধ! খেলার জন্য আর অপেক্ষা না করে তাই বিকল্প জীবিকা খুঁজে নিচ্ছেন ক্রিকেটাররা।

বরিশাল জেলা দলের লেগ স্পিনার মোহাম্মদ আবু হানিফ সরদার সে রকমই একজন। মা-বাবা ও চার বোনের সংসারে আয় করেন শুধু হানিফ ও তাঁর বাবা। বাবা অটোরিকশা চালান। সঙ্গে হানিফের ক্রিকেট থেকে আয় করা টাকায় চলে টানাটানির সংসার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই সময়ে বরিশাল বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট খেলে যা আয় হতো, তাতে ভালোই চলে যেত হানিফদের। টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি পাঁচ হাজার টাকা। ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারলে সারা বছরের চাল কেনার টাকা হয়ে যায়। জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলে আরও কিছু আয় হতো। কিন্তু করোনার কারণে এখন সব খেলাই স্থগিত।

যে হাতে বল ঘোরাতেন, ২৪ বছর বয়সী হানিফ তাই সে হাত দিয়েই এখন বর্গাজমিতে সবজি চাষ করছেন। পরিবারের খাওয়ার জন্য জন্য রাখার পর যা বিক্রি করেন, তাতে দিনে ৫০-৬০ টাকা আসে। করোনাকালে এই জীবনযুদ্ধের সঙ্গে এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছেন হানিফ, ‘সকালে বের হই, বিকেল পর্যন্ত খেতে কাজ করি। আর কোনো উপায় নেই। বরিশাল লিগ বা জেলায় কোনো খেলা হলে ওই টাকা দিয়েই চলতে পারতাম। সবজি চাষ না করলে এখন আমাদের না খেয়ে থাকা লাগবে।’

বরিশাল জেলা দলে হানিফের সতীর্থ সিরাজুল ইসলাম ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে সবশেষ খেলেছেন ওরিয়েন্টের হয়ে। করোনা তাঁকেও করে দিয়েছে বেকার ক্রিকেটার। বাধ্য হয়ে চাকরি নিয়েছেন এক ওষুধ কোম্পানিতে। ৯ হাজার টাকা বেতন, কাজ করেন প্যাকেজিংয়ের। মা-বাবা, ছোট বোন ও বড় ভাইয়ের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সংসারটা তবু চলতে চায় না।

২০১৪ সালে বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে সিরাজের কাঁধেই পরিবারের দায়িত্ব। ঢাকায় ক্লাব ক্রিকেট ও বরিশালের বিভাগীয় টুর্নামেন্ট খেলে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলত এত দিন। কিন্তু এখন প্রিয় খেলাটাকে ছেড়ে বাধ্য হয়ে করছেন অন্য কাজ, ‘খেলা হচ্ছে না। কিন্তু জীবন তো চালিয়ে নিতে হবে। তাই অন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। একটা পার্টটাইম চাকরি নিয়েছি। বসে থাকার চেয়ে এটা ভালো।’ তবে অন্য চাকরি করার সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য, ‘চাকরির ইন্টারভিউতে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, আর তো আমার বরিশাল স্টেডিয়ামে যাওয়া হবে না, খেলা হবে না!’

ঢাকার ক্রিকেটার মোহাম্মদ সজিব খানও হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছেন। মা, স্ত্রী আর এক বছরের সন্তান নিয়ে সংসার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঢাকা ক্রিকেটার্সের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের।। ঢাকায় বাড়ি ভাড়া করে পরিবার নিয়ে থাকতেন। কিন্তু এখন তো আয়-রোজগারই নেই, বাসাভাড়া দেবেন কীভাবে! ঢাকার বাসা ছেড়ে তাই স্ত্রী-পুত্রসহ গিয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে। বিধবা মায়ের জায়গা হয়েছে সজিবের চাচার বাসায়।

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি টুকটাক জার্সি ব্যবসার আয় দিয়ে সংসার চালাতেন সজিব। মার্চ-এপ্রিলে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও আলিগঞ্জের টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল তাঁর। করোনার কারণে সবই হয়ে গেছে এলোমেলো। কোথাও খেলা নেই। সংসার চালানোর জন্য সজিব বিক্রয়কর্মীর চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন স্ত্রীর গলার হার, মুঠোফোন। আপাতত রোজগার বলতে সস্তার থ্রি-পিস বিক্রি করে যা পান, সেটাই। ২৬ বছর বয়সী সজিব বলছিলেন, ‘আয়-রোজগার খেলাধুলা করেই হতো। এখন সেটা নেই। ঘরে মা, বউ ও এক বছরের ছোট বাচ্চা আছে। কিছু না কিছু করতেই হতো। কিছু থ্রি-পিস কিনে সেগুলো বিক্রি করছি। আর একটা চাকরি খুজছি।’

দিনাজপুরের ক্রিকেটার মোহাম্মদ সজল শেখ গত বছর খেলেছেন তৃতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্রের হয়ে। তিনিও এখন সামনে ঘোর অন্ধকার দেখছেন। খেলা না থাকায় এই ব্যাটসম্যানের হাতও এখন খালি। ছেলের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ বাবাকে বাধ্য হয়ে কসমেটিকস ফেরি করতে হচ্ছে। হতাশ কণ্ঠে সজল বলছিলেন, ‘খুব কষ্টে আছি। এভাবে আরও মাস দুয়েক গেলে খেলা ছাড়ার চিন্তা করতে হবে। পরিবার তো চালাতে হবে। খেলা না হলে অন্য কাজ করতে হবে।’

কিন্তু করোনাকালে সেই ‘অন্যপ্রায় চার মাস ধরে খেলা নেই। অন্য অনেক পেশাজীবীর মতো আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে ক্রিকেটারদেরও। বিশেষ করে যেসব ক্রিকেটার বিসিবির বেতনকাঠামোর বাইরে আছেন এবং যাঁদের আয়ের মূল উৎস নিচের দিকের লিগ বা জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট, আর্থিক সংকটটা তাঁদেরই বেশি। সংসারের খরচ জোগাতে তাঁদের কেউ কেউ তাই চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

ঈদের আগে বিসিবির পক্ষ থেকে ক্লাব ক্রিকেটারদের এককালীন আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে আর কত দিন চলে! ওদিকে করোনার প্রকোপ কমছে না বলে শিগগির ক্রিকেট মাঠে ফেরার সম্ভাবনাও নেই। ঢাকা, ঢাকার বাইরে—সব জায়গায়ই তো খেলা বন্ধ! খেলার জন্য আর অপেক্ষা না করে তাই বিকল্প জীবিকা খুঁজে নিচ্ছেন ক্রিকেটাররা।

বরিশাল জেলা দলের লেগ স্পিনার মোহাম্মদ আবু হানিফ সরদার সে রকমই একজন। মা-বাবা ও চার বোনের সংসারে আয় করেন শুধু হানিফ ও তাঁর বাবা। বাবা অটোরিকশা চালান। সঙ্গে হানিফের ক্রিকেট থেকে আয় করা টাকায় চলে টানাটানির সংসার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই সময়ে বরিশাল বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট খেলে যা আয় হতো, তাতে ভালোই চলে যেত হানিফদের। টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি পাঁচ হাজার টাকা। ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারলে সারা বছরের চাল কেনার টাকা হয়ে যায়। জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলে আরও কিছু আয় হতো। কিন্তু করোনার কারণে এখন সব খেলাই স্থগিত।

যে হাতে বল ঘোরাতেন, ২৪ বছর বয়সী হানিফ তাই সে হাত দিয়েই এখন বর্গাজমিতে সবজি চাষ করছেন। পরিবারের খাওয়ার জন্য জন্য রাখার পর যা বিক্রি করেন, তাতে দিনে ৫০-৬০ টাকা আসে। করোনাকালে এই জীবনযুদ্ধের সঙ্গে এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছেন হানিফ, ‘সকালে বের হই, বিকেল পর্যন্ত খেতে কাজ করি। আর কোনো উপায় নেই। বরিশাল লিগ বা জেলায় কোনো খেলা হলে ওই টাকা দিয়েই চলতে পারতাম। সবজি চাষ না করলে এখন আমাদের না খেয়ে থাকা লাগবে।’

বরিশাল জেলা দলে হানিফের সতীর্থ সিরাজুল ইসলাম ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে সবশেষ খেলেছেন ওরিয়েন্টের হয়ে। করোনা তাঁকেও করে দিয়েছে বেকার ক্রিকেটার। বাধ্য হয়ে চাকরি নিয়েছেন এক ওষুধ কোম্পানিতে। ৯ হাজার টাকা বেতন, কাজ করেন প্যাকেজিংয়ের। মা-বাবা, ছোট বোন ও বড় ভাইয়ের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সংসারটা তবু চলতে চায় না।

২০১৪ সালে বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে সিরাজের কাঁধেই পরিবারের দায়িত্ব। ঢাকায় ক্লাব ক্রিকেট ও বরিশালের বিভাগীয় টুর্নামেন্ট খেলে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলত এত দিন। কিন্তু এখন প্রিয় খেলাটাকে ছেড়ে বাধ্য হয়ে করছেন অন্য কাজ, ‘খেলা হচ্ছে না। কিন্তু জীবন তো চালিয়ে নিতে হবে। তাই অন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। একটা পার্টটাইম চাকরি নিয়েছি। বসে থাকার চেয়ে এটা ভালো।’ তবে অন্য চাকরি করার সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য, ‘চাকরির ইন্টারভিউতে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, আর তো আমার বরিশাল স্টেডিয়ামে যাওয়া হবে না, খেলা হবে না!’

ঢাকার ক্রিকেটার মোহাম্মদ সজিব খানও হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছেন। মা, স্ত্রী আর এক বছরের সন্তান নিয়ে সংসার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঢাকা ক্রিকেটার্সের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের।। ঢাকায় বাড়ি ভাড়া করে পরিবার নিয়ে থাকতেন। কিন্তু এখন তো আয়-রোজগারই নেই, বাসাভাড়া দেবেন কীভাবে! ঢাকার বাসা ছেড়ে তাই স্ত্রী-পুত্রসহ গিয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে। বিধবা মায়ের জায়গা হয়েছে সজিবের চাচার বাসায়।

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি টুকটাক জার্সি ব্যবসার আয় দিয়ে সংসার চালাতেন সজিব। মার্চ-এপ্রিলে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও আলিগঞ্জের টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল তাঁর। করোনার কারণে সবই হয়ে গেছে এলোমেলো। কোথাও খেলা নেই। সংসার চালানোর জন্য সজিব বিক্রয়কর্মীর চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন স্ত্রীর গলার হার, মুঠোফোন। আপাতত রোজগার বলতে সস্তার থ্রি-পিস বিক্রি করে যা পান, সেটাই। ২৬ বছর বয়সী সজিব বলছিলেন, ‘আয়-রোজগার খেলাধুলা করেই হতো। এখন সেটা নেই। ঘরে মা, বউ ও এক বছরের ছোট বাচ্চা আছে। কিছু না কিছু করতেই হতো। কিছু থ্রি-পিস কিনে সেগুলো বিক্রি করছি। আর একটা চাকরি খুজছি।’

দিনাজপুরের ক্রিকেটার মোহাম্মদ সজল শেখ গত বছর খেলেছেন তৃতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্রের হয়ে। তিনিও এখন সামনে ঘোর অন্ধকার দেখছেন। খেলা না থাকায় এই ব্যাটসম্যানের হাতও এখন খালি। ছেলের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ বাবাকে বাধ্য হয়ে কসমেটিকস ফেরি করতে হচ্ছে। হতাশ কণ্ঠে সজল বলছিলেন, ‘খুব কষ্টে আছি। এভাবে আরও মাস দুয়েক গেলে খেলা ছাড়ার চিন্তা করতে হবে। পরিবার তো চালাতে হবে। খেলা না হলে অন্য কাজ করতে হবে।’

কিন্তু করোনাকালে সেই ‘অন্য কাজটা’ও যে চাইলেই মিলছে না! করোনাভাইরাস শুধু মানবদেহের শ্বাসযন্ত্রই বিকল করছে না, চেপে ধরেছে মানুষের জীবিকার শ্বাসনালিও। কাজটা’ও যে চাইলেই মিলছে না!

Sharing is caring!