কোরবানির আগমনে বরিশালে মসলার বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোরবানীর ঈদের বাকি মাত্র কয়েক দিন। ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানীর মধ্যে দিয়ে পালন করা হবে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় এই উৎসব। আর পশু কোরবানী মানেই গোসত খাওয়ার ধুম। এ কারণেই কোরবানীর দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বরিশাল নগরীতে বাড়তে শুরু করেছে মসলার দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসলায় প্রকার ভেদে বেড়েছে ২শত টাকা পর্যন্ত। সামনে এর দাম আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে কোরবানিকে পুঁজি করে মসলার বাজারে আগুন লাগতে শুরু করলেও তদারকিতে দেখা মিলছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের জন্য সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে বলে দাবি ভোক্তাদের।

বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানি ঘনিয়ে আসছে. এ কারণে ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মূল্য বৃদ্ধির পেছনে প্রশাসনের বাজার তদারকিমূলক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়াকেও দায়ী করেছেন এ ক্রেতা।

তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বছর জুড়েই মসলার চাহিদা থাকে। কোরবানী আসলে এই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ কারণে পাইকারী বাজার থেকেই বেশি দামে মসলা বিক্রি করা হচ্ছে।

নগরীর বাংলা বাজারের মসলা ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে মসলার দাম কিছুটা চড়া। বিশেষ করে তিন ধরনের মসলা লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনির দাম বাড়তি।

তিনি আরো বলেন, এলাচের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ শত টাকা পর্যন্ত। লবঙ্গ কেজি প্রতি ১৫০ টাকা এবং দারুচিনিতে কেজি প্রতি বেড়েছে ৮০ টাকা পর্যন্ত।

গতকাল রোববার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকায়। এছাড়া এলাচ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮ শত থেকে চার হাজারের মধ্যে। প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২ শত টাকার মধ্যে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৮ শত থেকে ৯ টাকা।

তবে স্থিতিশীল রয়েছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম। দেশী ও আমদানি করা সব ধরনের পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আমদানি করা আদা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি রসুন কেজি প্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বাজার তদারকিমূলক কার্যক্রম না থাকায় মসলার বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। তাই ঈদের আগেই মসলার বাজারে তদারকিমূলক কার্যক্রমে জোর দেওয়ার দাবি ভোক্তাদের।

এ প্রসেঙ্গ মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ্ সোয়াইব মিয়া বলেন, আমাদের বাজার তদারকিমূলক কার্যক্রম নিয়মিতই চলছে। পণ্যের মূল্যের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত মসলার মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। তবে কোন ভোক্তার কাছ থেকে ব্যবসায়ী যদি বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিয়ে থাকে, তবে নির্দিষ্টভাবে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।