কোরবানিকে ঘিরে লঞ্চের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু : বিশেষ সার্ভিস নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবে সাদামাটা ঈদ কেটেছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের বিলাসবহুল লঞ্চ কর্তৃপক্ষের। মহামারি ঠেকাতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় লোকসান গুনতে হয় তাদের। সেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে কোরবানীর ঈদকে টার্গেট করেছেন লঞ্চ মালিকরা। তাই এবার একটু আগেভাগেই লঞ্চ গুলোতে শুরু হয়েছে বিশেষ সার্ভিসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম।

তবে কোরবানীর ঈদ ঘনিয়ে আসলেও টিকেট কাউন্টারের চিত্র লঞ্চ মালিকদের নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে। কেননা ঈদের বাকি আর কয়েক দিন থাকলেও কাউন্টারগুলো প্রায় ফাঁকা। নেই কেবিনের টিকেট নিয়ে কাড়াকাড়ি। এখন চাইলেই মিলছে কেবিন বা সোফার টিকেট। যাত্রীর চাপ না থাকায় পূর্বের ন্যায় এবার করা হয়নি টিকেটের জন্য আবেদন বা স্লিপ গ্রহণ পদ্ধতি।

অপরদিকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হলেও বিশেষ সার্ভিস নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেননি লঞ্চ মালিকরা। যাত্রীদের চাপ কম থানায় কোরবানীতে এবার কতটা লঞ্চ বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হবে সে নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় মালিক সমিতি। তবে যাত্রীদের উপর নির্ভর করে বিশেষ সার্ভিসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘রোববার সকাল ১০টা থেকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি কোম্পানির লঞ্চগুলোতে এক যোগে শুরু হয় অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম। পূর্বের বছরগুলোতে যাত্রীদের কেবিন দিতে অগ্রিম বুকিং স্লিপ ও পরে লটারি পদ্ধতি গ্রহণ করতে দেখা গেছে কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু এবার সেই পদ্ধতিও ভেস্তে গেছে। যাত্রী সংকটে আগে ‘আসলে আগে পাবেন’ পদ্ধতিতে কেবিন এবং সোফার অগ্রিম টিকেট বিক্রি করছে লঞ্চ কোম্পানিগুলো।

সুন্দরবন লঞ্চের কাউন্টারে অগ্রিম টিকেট নিতে আসা আল আমিন নামের যাত্রী জানিয়েছেন, ‘গত কোরবানীর ঈদে একটি টিকেটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে। কিন্তু এবার আর সেই সমস্যা হয়নি। কাউন্টারে আসা মাত্রই এক সাথে দুটি কেবিনের টিকেট পেয়েছি।

সুন্দরবন নেভিগেশন এর বরিশাল কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন জানান, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবে গেলো কয়েক মাসে ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে যাত্রীদের সংখ্যা কমে গেছে। তার ওপর ঈদে যাত্রীদের যাতায়তের ইচ্ছেও কম। তাই অগ্রিম টিকেটের চাহিদা নেই বললেই চলে। তাই কাউন্টারেও টিকেটের জন্য হুড়োহুড়িও কম। আর চাপ না থাকায় খালি কাউন্টারেই বসে থাকতে হচ্ছে ক্লার্কদের।

ছালমা শিপিং লাইন্সের কীর্তনখোলা লঞ্চের ব্যবস্থাপক মো. বেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, পূর্বের নিয়মেই যারা আগে আসবেন তারা আগে টিকেট পাবেন। যতক্ষণ কেবিন খালি থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলছে। তবে এবার কাউন্টারে কেবিনের যাত্রীদের ভিড় নেই বললেই চলে। তাই রোজার ঈদে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা নিয়ে মালিকরা চিন্তিত বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ‘ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ২৪টির মতো বেসরকারি লঞ্চ ও সরকারি ৫টি জাহাজ এবং স্টিমার চলাচল করে। তবে এবারের ঈদে যাত্রীদের চাপের ওপর নির্ভর করবে স্পেশাল সার্ভিসের আওতায় লঞ্চের সংখ্যা।

বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, ‘করোনার কারণে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তারা নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে। এ কারণে এবার শেষ দিকে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা বিগত দিনের তুলনায় অনেক কমে যাবে বলে দাবি করেছেন তারা।

##সম্পাদনা : খান রুবেল