কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় আরও বিস্তৃত পরিষেবা নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক

প্রকাশিত: ৬:০২ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২০

ঢাকা অফিস: গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা দিতে করোনভাইরাস এর প্রকোপ চলাকালীন নিজেদের পরিষেবা এবং ব্যাংকিং প্রোডাক্ট আরও বিস্তৃত করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। নীতি নির্ধারকদের সাথে যোগাযোগ সক্রিয় রেখে সরকার ঘোষিত স্টিমুলাস প্যাকেজের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহক পর্যায়ে সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।

ইতিমধ্যে তৈরি-পোশাক শিল্প ও এই জাতীয় অন্যান্য খাতগুলির সাথে ব্যাংকটি নিবিড়ভাবে কাজ করছে যাতে তারা শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করতে এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হন। কর্পোরেট এবং কমার্শিয়াল গ্রাহকদের ক্ষেত্রে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে পুনর্গঠন এবং পুনঃ অর্থায়নের প্রস্তাবনা তৈরি করছে ব্র্যাক ব্যাংক।

গ্রাহকদের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ব্র্যাক ব্যাংক মহামারী চলাকালীন তার রিটেইল ও এসএমই গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধ তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার সুযোগ দিয়েছে, ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের জন্য তিন মাসের জন্য বিলম্ব ফি মওকুফ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইতোমধ্যেই ব্র্যাক ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশে কমিয়ে এনেছে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে।

এছাড়াও তহবিল স্থানান্তর ও অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আরও ভাল সেবার দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকটি তার সমস্ত ডিজিটাল এবং বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ত্বরান্বিত করেছে। ব্রাঞ্চে না গিয়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও কল সেন্টারের মাধ্যমেই ব্যাংকিং সেবা নিতে সক্ষম হচ্ছেন গ্রাহকরা।

জরুরী ব্যাংকিং পরিষেবা দেবার লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক তার ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্কের প্রায় ৫০ শতাংশই খোলা রেখেছে। গ্রাহক ও কর্মী – উভয়েরই স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটি তার শাখা এবং অন্যান্য অফিসগুলিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের জন্য ফেস মাস্ক পরা এবং শাখার প্রবেশদ্বারে ফুট-ট্রে ও হ্যান্ডওয়াশ স্টেশন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে।

ব্যাংকের যেকোন অফিসের ভিতরে অবস্থানকালে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেবা গ্রহণের জন্য সকল শাখায় গ্রাহকদের নির্ধারিত আসন এবং দাঁড়ানোর স্থানও চিহ্নিত করে দিয়েছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকের কর্মীরা যেন ঘরে অথবা অফিসে সচেতনভাবে চলতে পারেন, সেজন্য তাদের ই-লার্নিং মাধ্যমে জ্ঞান ও সচেতনতামূলক আপডেট দেয়া হচ্ছে। নিয়মিত ইমেইল, এসএমএস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রাহকদের আপডেট দিচ্ছে ব্যাংকটি। রিলেশনশিপ ম্যানেজাররাও তাদের নিজ নিজ গ্রাহকদের সাথে সংযুক্ত থাকছেন যাতে করে তাদের সুবিধা অসুবিধার যতœ নিতে পারেন।

জাতীয় এই দুর্যোগকালে ব্র্যাক ব্যাংক তার সিএসআর তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকা প্রদান করেছে। একটি সরকারী হাসপাতালের আইসিইউ-তে ব্যবহার উপযোগী ৬,০০০ সেট সিই-প্রত্যয়িত ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) অনুদান করেছে। ব্যাংকের পরিচালন কর্মীরা স্বেচ্ছায় তাদের এপ্রিল মাসের বেতন থেকে দু’দিনের বেতন এবং বাকি কর্মীরা এক দিনের বেতন অনুদান করে মোট ১ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা ব্র্যাকের খাদ্য সংকট মোকাবিলা তহবিলে জমা করেছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন, বলেছেন:

“গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুস এর সদস্য হিসেবে এবং জাতিসংঘের টেকসই লক্ষ্যমাত্রার সাথে মিল রেখে পিপল, প্ল্যানেট ও প্রসপারিটি (সমৃদ্ধি) – এই তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করি আমরা”।

“করোনাভাইরাস প্রকোপ চলাকালীন এই কঠিন সময়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিলোঃ

১) শাট ডাউন সময়কালে এবং এর পরেও গ্রাহক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা;

২) শাট ডাউনের সময় সকল গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়ার জন্য শক্তিশালী অপারেশনাল এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বজায় রাখা;

৩) গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সমস্ত ডিজিটাল এবং বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেল এর সক্ষমতা বাড়ানো; এবং,

৪) মহামারীগুলির অর্থনৈতিক ছোবল থেকে রক্ষা করতে সকল গ্রাহককে উপযুক্ত সেবা ও সুবিধা প্রদান করা”।

“কোভিড-১৯ পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে! এর কারণে অর্থনীতিতে মন্দা দেখা যাচ্ছে, সমাজ কঠিন সময়ের মুখোমুখি হচ্ছে এবং মানবসম্প্রদায় কয়েক শতকে তার সবচাইতে বড় হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে! ব্র্যাক ব্যাংকে, আমাদের মধ্যে অনেকেই এখনও শাখা এবং হেড অফিসে কাজ করছেন, তবে অধিকাংশই টেকনোলজির সহায়তায় ঘরে থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

আমরা সবাই এখন পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে অনেক বেশি সোচ্চার। ৮,৫০০ এরও বেশি সদস্যের ব্র্যাক ব্যাংক পরিবার এর আগে কখনও ডিজিটাল মাধ্যমে এতখানি সংযুক্ত ছিলোনা। পেশাদার এবং ব্যক্তিগত উভয়ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকারগুলির প্রতিফলন ঘটিয়ে আমরা সকলেই ভবিষ্যতের এক নতুন ‘স্বাভাবিক’ এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।”

Sharing is caring!