কোন কিছুতেই থামছেনা খাপড়াভাঙ্গা নদী তীর দখল : উঠছে নতুন স্থাপনা

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ খাপড়াভাঙ্গা নদী তীর দখল করে স্থাপনা তোলার কাজ কিছুতেই থামছে না। নদীটির পাড়েই রয়েছে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। সেখানকার ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় চলছে এমন দখল দৌরাত্ম্য। দক্ষিণের ইলিশসহ বৃহৎ মাছের মোকাম মহিপুর-আলীপুর বন্দরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা এ নদীটিকে স্থানীয় লোকজন শিববাড়িয়ার চ্যানেল নামেও চেনেন। হাজারো মাছ ধরার ট্রলার গভীর অগভীর সাগরবক্ষে মাছ শিকার শেষে বিক্রির জন্য এই মোকাম ব্যবহার করে আসছে। দুর্যোগকালীন জেলেদের নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার অবলম্বন এই নদীটি। সাগর থেকে আন্ধারমানিকের মোহনার থেকে শুরু হয়ে নদীটি অপর প্রান্ত আশাখালী হয়ে রাবনাবাদ দিয়ে ফের সাগরে মিলেছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে নদীটি ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ নদীর সঙ্গে রয়েছে ১৪টি সøুইস সংযুক্ত খাল। মানুষ এ খালের পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করে আসছে। বহুবিধ কাজে ব্যবহৃত এ নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। নদীর পারজুড়ে রয়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল। তবে অধিকাংশই উজাড় করা হয়েছে। এমনকি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলসহ ভূমি অফিস চাষযোগ্য খাস জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত পর্যন্ত দিয়েছে। আর পলিতে নদীটি ক্রমশ ভরাট হয়ে গেছে। হাজার হাজার জেলেসহ কৃষকের জীবন-জীবিকার অবলম্বন এ নদীটি রক্ষায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন জেলেসহ কৃষকরা। এ নদীটি রক্ষায় কয়েক বছর আগে দুই পারের কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু নদীর সীমানা চিহ্নিত না করে চালানো উচ্ছেদ অভিযানে কার্যত কোন কাজে আসেনি। বর্তমানে মহিপুর-আলীপুর বন্দর ঘেঁষে নদী তীরে ফের তোলা হচ্ছে স্থাপনা। প্রায় আট বছর আগে এ নদীটি পুনর্খননের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েক দফা সমীক্ষা চালায়। কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। এটিকে জেলেদের পোতাশ্রয় হিসেবে ব্যবহারে নাব্যতা ফেরাতে পুনর্খনন জরুরি প্রয়োজন।

 

বর্তমানে এ নদী তীরের স্থাপনা তোলা বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন কলাপাড়া গ্রাজুয়েট ক্লাবের সদস্য কামাল হাসান রনি। আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের মোঃ আল-ইমরান জানান, নদীকে নদীর মতো রাখতে হবে। সেলক্ষ্যে প্রথমত নদীর সীমানা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। উপকূলীয় জনকল্যান সংঘের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, সকল নদী রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি প্রয়োজন। কলাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল জানান, নদী-খাল দখলদারদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে।