কোনও বিচার নয়, ধর্ষকদের সরাসরি ফাঁসি দেখতে চায় শতাব্দী রায়

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯

কোনও প্রক্রিয়া মেনে ধর্ষকদের ফাঁসি দেওয়ার দরকার নেই। সরাসরি তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হোক। এমনই দাবি করলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদ ও এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দি রায়। তিনি বলেন, আদালতের বিচারে ফাঁসি চাওয়া হবে, সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে, মা আসবে, বাবা আসবে। এতকিছুর দরকার নেই। সবার সামনে ফাঁসি দাও, আর সেটা সরাসরি দেখানো হোক। খবর কলকাতা ২৪x৭ এর।

হায়দরাবাদে পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্যসভা সংসদের উভয়কক্ষ। সোমবার রাজ্যসভায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষোভ নিয়ে কথা বলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ তথা অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। তিনি বলেন, ধর্ষকদের আমজনতার হাতে তুলে দেওয়া হোক। মানুষই ওদের পিটিয়ে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিক। জয়ার সেই দাবিকে সমর্থন করেছেন এরাজ্যের তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, বিজেপি এমপি রূপা গাঙ্গুলীও।

উল্লেখ্য, তেলেঙ্গানায় গত বুধবারের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা ভারত। ২৬ বছরের ওই তরুণীর আধপোড়া দেহাংশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে এই চার জনই ট্রাকের কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণ ও ৩৬২ ধারায় অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মৃত্যুর পরেও বারবার ধর্ষণ করা হয় সেই চিকিৎসককে
ভারতের হায়দরাবাদে এক তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে তারা জানিয়েছে, মৃত্যুর পরও লরির কেবিনে ওই তরুণীকে একে একে চারজনই ধর্ষণ করেন।

এদিকে, এ ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের হয়ে কেউই মামলা লড়বেন না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামশাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা। পূর্ব পরিকল্পনামাফিক আলিয়াস আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন এবং চেন্নাকেসাভুলু প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধর্ষণ করেন ওই তরুণী চিকিৎসককে। প্রমাণ সরিয়ে ফেলতে ধর্ষণের পর পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয় মৃতের শরীর।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে হায়দরাবাদের সামশাবাদ টোলপ্লাজার সামনে স্কুটি রাখেন ওই তরুণী চিকিৎসক। সেখানে এক চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে টোলপ্লাজার সামনে আসেন তরুণী চিকিৎসক। তিনি দেখেন, তার স্কুটির চাকা পাংচার হয়ে গেছে। সেইসময় দুজন লরিচালক এবং খালাসি তরুণীর কাছে আসেন। তারা তার স্কুটির চাকা সারিয়ে দেয়ার কথা বলেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করেন তরুণী চিকিৎসক।

স্কুটি সারাতে নিয়ে যান দুজন। কিন্তু গ্যারেজ বন্ধ থাকার কথা বলে স্কুটি নিয়ে ফিরে আসেন তারা। সেই সময় বোনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন চিকিৎসক। তিনি শেষবারের মতো বোনকে বলেন, তার ভয় লাগছে। তারপর থেকে তরুণী চিকিৎসকের ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর সেখানে একে একে চারজন ধর্ষণ করেন তাকে। ধর্ষণের ফলেই মৃত্যু হয় ওই তরুণীর।

ধর্ষণের পর মৃত্যু নিশ্চিত হলে লরির কেবিনে তুলে নেয়া হয় তরুণীকে। পুলিশ রিমান্ডে ধর্ষকরা জানিয়েছে, জাতীয় সড়ক দিয়ে লরিতে করে তরুণীর দেহ নিয়ে যাওয়ার পথে চারজন আবার ধর্ষণ করেন তাকে। এরপর স্কুটি থেকে তাকে ফেলে দেয়া হয়। জোগাড় করা হয় পেট্রল। পরে স্থানীয় এক ব্রিজের নিচে নিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় তরুণীর মরদেহ। বৃহস্পতিবার সকালে ওই তরুণীর সম্পূর্ণ অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। একটি লকেটের সূত্র ধরেই তার দেহ শনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Sharing is caring!