কোদাল হাতে চাষাবাদে নওয়াজুদ্দিন

প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

বার্তা ডেস্ক :: কাজ শেষে খেত থেকে ফিরছেন নওয়াজুদ্দিন। ছবি: ইনস্টাগ্রামকাজ শেষে খেত থেকে ফিরছেন নওয়াজুদ্দিন। ছবি: ইনস্টাগ্রামবলিউডের স্বজনপ্রীতি কিংবা সুদর্শন, সুঠাম দেহ; কোনো কিছুই ছিল না উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের কৃষক পরিবারের সন্তান নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীর। কেমিস্ট, দারোয়ানের চাকরি করে একটু একটু করে অভিনয়কে রপ্ত করেছেন। মঞ্চ থেকে সিনেমা, পকেটমার, ভিক্ষুক, দারোয়ান, মালিই ছিল প্রথমে করা চরিত্র। এরপর কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। অবশেষে একদম গ্যাংস্টার হয়েই প্রবেশ বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায়। এখন হলিউড, বলিউড মাড়িয়ে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। তবু মুজাফফরনগরের কৃষক পরিবারের নওয়াজ বাপের কাজেই পান প্রশান্তি।

তারকাখ্যাতির ঝলমলে পর্দা সরিয়ে পরম মুক্তি লাভে ছুটে চলেন মাটির কাছেই। কতটা বিনয় কিংবা শেকড়ের টান থাকলে স্যাক্রেড গেমস–এর গণেশ গাইতোঁড়ে হয়ে যান বুধানার কৃষক।

করোনাকালের এই সময়ে বলিউডে কাজ নেই খুব একটা। এখনো ঠিক সরগরম নয় সিনেমার শুটিংয়ে। এর মধ্যে তরুণ উঠতি নায়ক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে দ্বিধাবিভক্ত বলিউড। এলোমেলো সবার মন। আর ঠিক এই মুহূর্তে নওয়াজ এসব আলোচনা থেকে যোজন যোজন দূরে। করোনাকালে মনকে প্রশান্তি দিতে কিংবা তাঁর ভাষায় ‘পরম মুক্তি’ লাভে তিনি এখন মাটির কাছে, মুজাফফরনগরের বুধানার কৃষিজমিতে। সম্প্রতি টুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন নওয়াজ। সেই ভিডিওতে দেখা গেল, মাথায় পাগড়ি, সাধারণ গেঞ্জি আর প্যান্ট পরে কোদাল হাতে কৃষিকাজে ব্যস্ত নওয়াজ। বলছেন, ‘আজকের মতো কাজ শেষ।’

নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী। ছবি: ইনস্টাগ্রামনওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী। ছবি: ইনস্টাগ্রামনিজেকে মাটির কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি নওয়াজের কাছে ‘পরম মুক্তি’ লাভ করার মতো। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখানেই আমার পরম শান্তি খুঁজে পাই। বেশির ভাগ মানুষ বিষাদগ্রস্ততা কাটাতে কিংবা আবার সজীব হতে আশ্রমে যান। কিন্তু আমি যাই আমার শেকড়ে, যেখানে আমি আমার জীবনের অর্ধেক কাটিয়েছি। সেখানে আমি খেতে সময় কাটাই, আখ খাই, ট্রাক্টর চালাই এবং শৈশবের বন্ধুদের সঙ্গে মজা করি।’

নওয়াজ আরও বলেন, ‘যখন আমি মাঠে কাজ করি, তখন আমার জীবনের শুরুর গল্পগুলো মনে পড়ে। এবং পরিশ্রম ছাড়া জীবনে আর কিছুই নেই। মুম্বাইয়ে আমি বাস্তব জীবনের অভিনয় করি। কিন্তু কিছু জায়গা থাকে, যেখানে নিজের সত্যটাকেই খুঁজে পাওয়া যায়। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এটাই আমার জায়গা।’

Sharing is caring!