কুয়াকাটা সৈকতে পড়ে থাকা কংক্রিটের অংশ ১ যুগ পরে অপসারণ

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কুয়াকাটা সৈকতের শূন্যপয়েন্টর প্রায় এক শ’ মিটার এলাকাজুড়ে এলজিইডির পরিত্যক্ত ভবনের ভাঙা বড় বড় কংক্রিটের অংশ পড়ে থাকার এক যুগ পর বৃহস্পতিবার দুপুরে অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। সন্ধ্যায় শেষ হয়। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কুয়াকাটা পৌরপরিষদ এই উদ্যোগ নিয়েছে। স্ক্যাভেটরের সাহায্যে এসব ব্লক, কংক্রিটের খ- তুলে ছয় চাকার ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ কাজে চায়না সিকো কোম্পানি স্ক্যাভেটর ও ট্রলি দিয়ে সহায়তা করেন। পড়ে থাকা এবড়ো-থেবড়ো এই কংক্রিটের টুকরায় বহু পর্যটক হাতে-পায়ে আঘাত পেয়ে জখম হয়েছেন। এসব অপসারণ না করায় জোয়ারের সময় গোসল করতে গিয়ে পর্যটকরা বিপজ্জনক অবস্থার শিকার হয়েছেন। নিজের অজান্তেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

 

বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফার মো. রুবেল জানান, তারা ইতোপূর্বে নিজেদের উদ্যোগে বহুবার ঝুঁকিপূর্ণ এরিয়ায় বাঁশ পুঁতে লাল কাপড় টানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যটকের স্বার্থে এসব কংক্রিটের খ- অপসারণে কোন প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রায় এক যুগ আগে সৈকত লাগোয়া এলজিইডির বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কাম বাংলোর ভবন সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে বিলীনের শঙ্কায় ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলাম ক্রেতা ভবনটি ভেঙে নেয়। কিন্তু পড়ে থাকে ভবনের নিচের অংশের বড় বড় স্লাব, সিমেন্ট-খোয়ায় বানানো পিলার, ফ্লোরের অংশ। ভবনের ভাঙা অংশের অসংখ্য কংক্রিটের খ- বছরের পর বছর পড়ে থাকায় পর্যটকের জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। এসব অপসারণে পর্যটকসহ ব্যবসায়ীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। তারা এখন জোয়ারের সময় নিরাপদে সাগরে গোসল করতে পারবেন।

 

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহরাব হোসাইন জানান, ইতোপূর্বে তারা সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন। এবারে পর্যটকের দীর্ঘদিনের একটি ভোগান্তি লাঘব করলেন। কুয়াকাটায় আসা পর্যটক এবং ক্ষুদে দোকানিসহ সচেতন মানুষ ট্যুরিস্ট পুলিশের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এসময় কুয়াকাটার নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।