কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ার ঘটনায় মামলা দায়ের: গ্রেফতার ২

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২০

নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ॥

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের (সিমিউই-৫) পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়ার ঘটনায় মহিপুর থানায় মামলা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টায় কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার মো: হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় মহিপুর থানা পুলিশ সোমবার সকালে কুয়াকাটার আলীপুর থেকে ব্যবসায়ী ও প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক আবুল হোসেন ওরফে হোসেন মোল্লা ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। ওই মামলায় পাঁচজনের নামসহ অজ্ঞাত আরও তিনকে নিয়ে মোট আটজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়। এছাড়া রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের ইন্টারনেট সেবা সচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানিয়েছেন।

তবে সংযোগ আপাতত পুনরুদ্ধার হলেও পুরোপুরি সচল করতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে বলে ওই কর্মকর্তার দাবি। কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যন্ডিং স্টেশন সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর বাজার সংলগ্ন কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ: বারেক মোল্লা ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লার ভাই আবুল হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যবসায়ী ব্যক্তি উদ্যোগে একটি জমির উন্নয়ন কাজ করছিলেন।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত না করে খননযন্ত্র দিয়ে কাজ করার সময় ল্যান্ডিং স্টেশনের পাওয়ার ক্যাবল কেটে সেসময় আগুন ধরে যায়। এরপর তারা কাজ ফেলে রেখে চলে গেলেও ততক্ষণে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে সারা দেশের ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মামলার বাদী কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার হারুন অর রশিদ জানান, তাদের কোন প্রকার অবহিত না করে বেড়িবাঁধ লাগোয়া মাটির তলায় খননযন্ত্র ব্যবহার করে কাজটি করতে গিয়ে এমন সংকট তৈরী হয়েছে।

সংযোগ কাটা পড়ে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ থাকায় কি পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ইনচার্জ ডিজিএম মো: তারিকুল ইসলাম বলেন, সংযোগ পুন:স্থাপনে প্রায় আট লাখ টাকা খরচ হবে।

এছাড়া দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টায় পার সেকেন্ডে ৭শ‘ ৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বন্ধ থাকার ফলে বিএসসিসিএল এর কত টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এটি এখনও নিরূপণ করা যায়নি। মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জমান বলেন, সাবমেরিনের ক্যাবল কাটার ঘটনায় সোমবার রাত তিনটার দিকে একটি মামলা হয়েছে। আমরা সোমবার সকালে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি।

Sharing is caring!