কুয়াকাটায় মাটিভাড়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১

কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কুয়াকাটায় লগ্নিকারক অনুপস্থিত মালিকরা তাঁদের ক্রয় করা জমাজমি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র এ জমিতে খুটা জেলেসহ এক ধরনের নিম্ন আয়ের মানুষকে অস্থায়ী ভিত্তিতে বসতি স্থাপনের ঘর তুলে থাকার সুযোগ দিয়ে মাটি ভাড়া বাবদ বছরে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এসব বসতিস্থাপন কারীদের অপসারণ নিয়ে বিপাকে পড়েন জমির মালিকরা। আবার জমির ধরন নষ্ট করে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

 

পশ্চিম কুয়াকাটা গ্রামে দুই একর ৬৪ শতক জমি কিনে এমন বিপাকে পড়েছেন ঢাকাস্থ জিন্নাত ফ্যাশন লিমিটেড এর চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ। তিনি ২০০৮ সালে লতাচাপলী মৌজার (হাল কুয়াকাটা) এই জমি ক্রয় করেন। বিএস ৫৭ খতিয়ানের এই জমি আবার দেখভালের দায়িত্ব দেন স্থানীয় নাসির আকোনকে। নাসির আকনের অভিযোগ ওখানকার নবনির্বাচিত কাউন্সিলর অন্তত ২৫ জন জেলেসহ বিভিন্ন পেশার দরিদ্র মানুষকে ঘর তুলে ভাড়াভিত্তিক বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন। প্রত্যেক ঘর মালিকের কাছ থেকে মাটি ভাড়া বাবদ ১০-১২ হাজার টাকা বছরে আদায় করছেন। জেলেরা নিজেদের টাকায় ঘর তুলে নিয়েছেন।

 

ওই স্পটে থাকা ইউনুচ মাঝি জানান, তিনি দুইটি খুটা নৌকায় মাছ ধরেন। প্রায় তিন বছর তিনি এখানে রয়েছেন। নিজের টাকায় ঘর তুলেছেন। বছরে ১০ হাজার টাকা মাটি ভাড়া দিতে হয়। একই কথা বললেন, আরেক বাসীন্দা আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার। তাকে ওখানে স্থানীয় হালিম খান থাকতে দিয়েছেন। হালিম খান নবনির্বাচিত কাউন্সিলর তৈয়ব আলী খানের ভাই। এভাবে তৈয়ব আলী খানের সজনদের নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলা হয়েছে। অধিকাংশ খুটা জেলেরা জানান, তাঁদের থাকার জায়গা না থাকায় কাউন্সিলর এভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তাকে বছরে ভাড়া বাবদ টাকা দিয়ে আসছেন। এমনকি এ জমির একটি জায়গায় বড় ডোবা খনন করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে বেড়িবাঁধের ভিতরের জমিতে সেখানে আরও ১৫/১৬টি ঘর তুলে বসতি দেয়া হয়েছে। এভাবে কুয়াকাটায় জমি কিনে লগ্নিকারকরা বিপাকে পড়ছেন। জমি বিক্রি করে ওই জমিতে আবার বসতি তোলা হচ্ছে। ক্রেতারা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন থাকার সুযোগে এভাবে একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র গড়ে উঠেছে। জমির অনুপস্থিত মালিকরা এ কারনে চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিযুক্ত কাউন্সিলর তৈয়ব আলী খান জানান, এখানে আমার বাব-চাচাদের জমি রয়েছে। আব্দুল ওয়াহেদ কিংবা জিন্নাত ফ্যাশন নামের কাউকে তিনি চেনেন না।