কুয়াকাটায় বেহাত হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার জমি

প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ দশ বছর আগেও কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের ভিতরে তালগাছটির সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। যেখানে লেখা ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত সরকারী সম্পত্তি। মৌজার নাম লতাচাপলী। জে এল নং ৩৪। খতিয়ান নং এক ও ১২২৭। দাগ নম্বর ৫১৭৮। জমির পরিমাণ ১২ একর ৯৬ শতক। অথচ এখন তালগাছটি দাঁড়িয়ে আছে। সাইনবোর্ড উধাও। জমির চারদিকসহ ভিতরে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। দেয়া হচ্ছে দেয়াল। আশপাশে উঠেছে বহুতল স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ কয়েকদিন পরে তালগাছও কেটে ফেলা হবে। কুয়াকাটার প্রাণকেন্দ্রে শূন্য পয়েন্টের পশ্চিম দিকে বেড়িবাঁধের ভেতরে এ জমির অবস্থান। এক শতক জমির দাম কমপক্ষে দশ লাখ টাকা। সেখানে প্রায় ১৩ একর জমির মালিকানার সাইনবোর্ড উধাও হয়ে গেল।

 

বছরের পর বছর গড়িয়ে গেছে, কারও কোন মাথাব্যথা নেই। একই দৃশ্য কুয়াকাটা শূন্যপয়েন্টের পুবদিকের অবস্থা। মূল খতিয়ান ৬৬২ থাকলেও ১২০৩ নম্বর একটি ভুয়া খতিয়ান খুলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দুই একর জমি দিঘিসহ ভরাট করে দখল করে নিয়েছে। একই দৃশ্য খাজুরা এলাকায় বেড়িবাঁধের সেøাপসহ মাইলের পর মাইল এলাকা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দখল করা হয়েছে। মহিপুরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে পুরনো অফিস ক্যাম্পাসসহ সাড়ে ছয় একর জমি। সেখানে ভগ্নদশার ভবনসহ জমিতে তোলা হচ্ছে স্থাপনা।

 

ফাঁসিপাড়া স্লুইস সংলগ্ন আশপাশের প্রায় তিন একর জমি জবরদখল করে সেখানে স্থাপনা তুলেছে কয়েকটি মহল। একটি হাউজিং কোম্পানি কুয়াকাটায় দখল করেছে পাউবোর প্রায় ৭৫ শতক জমি। এভাবে কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার জমি দেদার দখল করা হয়েছে। এমনকি বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের স্লোপসহ অধিগ্রহণ করা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল। এসব জমির সরকারি খাজনা ফি-বছর পাউবো পরিশোধ করে আসছে। অথচ সরকারের এ জমি রক্ষায় কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। উল্টো মাছচাষসহ নানা অজুহাতে একসনা থেকে তিন/চার বছরের ইজারা নিয়ে সেখানে তোলা হচ্ছে বহুতল স্থাপনা। খোদ কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের পেছনে তোলা হয়েছে পাকা স্থাপনা। সেখানকার ২৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ২০১৮ সালের মে মাসে তালিকা করা হয়েছে।

 

কিন্তু আজ অবধি কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার জমি স্থায়ীভাবে বেহাত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় বহুতল স্থাপনা তোলা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের অভিমত এই মুহূর্তে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন এলাকার উন্নয়নে এসব জমি উদ্ধার করা প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিজমা উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।