কুয়াকাটায় পাওনা টাকা না দেওয়ার অজুহাতে আদালতে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা প্রতিনিধি  ::

কুয়াকাটায় পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পারিবারিক সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে টাকা পয়সা নেওয়ার পর এখন নানা টালবাহানা শুরু করেছেন। সোমবার সকাল ১০টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ভুক্তভোগী আঃ রহিম ফরাজী লিখিত বক্তব্যে এমনসব দাবি করেছেন।

প্রেসক্লাব সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লবের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্যে আঃ রহিম ফরাজী জানান, পটুয়াখালীর মহিপুর থানার মাইটভাঙ্গা গ্রামের ইউসুফ গাজী’র সাথে তার পারিবারিকভাবে সুসম্পর্ক ছিলো। দু’জনই প্রবাসে থেকেছেন। একসময় পারিবারিক সম্পর্ক গড়ায় আর্থিক লেনদেনে। ইউসুফ গাজী দেশে ফিরে এসে শুটকি মাছের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন তারিখে আঃ রহিম ফরাজীর নিকট থেকে ১০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে ইউসুফ গাজী ব্যবসা বন্ধ করে রহিম ফরাজীর পাওনা দশ লক্ষ টাকা না দিয়ে ঢাকায় চলে যায়।

রহিম ফরাজী যোগাযোগ করলে কখনও নগদ টাকা পরিশোধ করবেন আবার কখনও নিজ ভোগদখলীয় জমির দলিল সম্পাদন করে দিবেন- এমন প্রতিশ্রæতি দিতে থাকেন। এভাবে প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হয়। এরপর ইউসুফ গাজী যোগাযোগ বিছিন্ন করে দেয়। একপর্যায়ে গত ২০ আগস্ট তার সাথে দেখা হলে পাওনা ১০ লক্ষ টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য সময় চেয়ে তিনশত টাকার ননজুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্প ক্রয় করেন।

এর পাঁচদিন পর গত ২৫ আগস্ট উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মুখে ননজুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে লিখিত ও ব্যাংক চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজিয়ে রহিম ফরাজীকে প্রধান আসামী করে তার বোনের জামাই মোঃ বাবুল ভূইয়া ও ভাগিনা মোঃ শাহিন ভূইয়ার নামে কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৬৯/২০২০ নং একটি মামলা দায়ের করেন।

লিখিত বক্তব্যে আঃ রহিম ফরাজী বলেন, মোঃ ইউসুফ গাজী আমার পাওনা ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার জন্য সময় চেয়ে তিনশত টাকার মূল্যমানের নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে লিখিত এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিঃ, আলীপুর শাখার চেক প্রদান করার সময় ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ ভদ্র, ইউপি সদস্যা মোসাঃ মিনা রহমান, মহিপুর থানা শ্রমিকলীগ সভাপতি মোঃ আবুল কালাম ফরাজী ও আমার মেজভাই আঃ মজিদ ফরাজী উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্বেচ্ছায় ষ্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক প্রদানের পর আমার পাওনা দশ লক্ষ টাকা পরিশোধ না করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে হেয় পতিপন্ন করার অপচেষ্টা করছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউসুফ গাজী তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে আলীপুর একা পেয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে ষ্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক নিয়েছেন আঃ রহিম ফরাজী।

Sharing is caring!