কুয়াকাটায় কাটা পড়া সাবমেরিন ক্যাবলের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২০

কুয়াকাটা প্রতিনিধি \
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী লিঃ (বিএসসিসিএল) কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের ল্যান্ড ফাইবার ক্যাবল ও পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি হলেও এ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। অন্যদিকে ক্যাবল কাটার অভিযোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ না করে বিএসসিসিএল এর দায়ের করা মামলায় দুই জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বিএসসিসিএল কোম্পানীর তরফ থেকে সুস্পষ্ট কোন ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ কিংবা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়নি। একই সাথে কুয়াকাটা বীচ ম্যানহোল থেকে ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত ৪ ধাপে নিরাপত্তা কর্মীদের দেখভালের দায়িত্ব থাকলেও তাদের ব্যর্থতার বিষয়েও কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন (সিমিউই-৫) থেকে গত ৯ আগস্ট দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা দেশের সর্বত্র ইন্টারনেটের ইনকামিং অ্যান্ড আউটগোয়িং ট্রাফিক বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে প্রতি সেকেন্ড ৭শ’ ৬০ গিগাবাইট ইন্টারনেট সরবরাহ বন্ধ ছিল, এ তথ্য সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানীর। উচ্চগতির ক্ষমতাসম্পন্ন (ব্রডব্যান্ড) কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন (সিমিউই-৫) থেকে পারসেকেন্ডে ১৬০০ গিগাবাইট সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। অপরদিকে সম্প্রতি কুয়াকাটার স্টেশন থেকে ট্রাফিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে কক্সবাজার (সিমিউই-৪) স্টেশন থেকে সক্ষমতার (পারসেকেন্ড ২০০ গিগাবাইট) সবটাই সরবরাহ করা হলেও তা ছিল ধীরগতি সম্পন্ন। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের প্রায় ৬০% কুয়াকাটা ল্যান্ডিং (সিমিউই-৫) স্টেশন থেকে সরবরাহ করে আসছিল।

ফলে বিএসসিসিএল কক্সবাজার থেকে চালু থাকা (সিমিউই-৪) সংকটময় মুহূর্তের দায় স্বীকার করে নিলেও যথাযথ গ্রাহক সেবা দিতে ব্যর্থ হয়। এদিকে, বিএসসিসিএল এর সাথে বিটিআরসি’র লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিআইসিডবিøউ, আইআইজি, আইসিএক্স বা আইএসপিসহ যেসকল কোম্পানীর সাথে ব্যান্ডউইথ বিক্রির চুক্তি রয়েছে ওইসকল চুক্তিপত্রে ট্রাফিক বিচ্ছিন্নের পেনাল্টি বিষয়ে কোন শর্ত নেই বলে দাবি করেছে বিএসসিসিএল। ফলে ট্রাফিক বিচ্ছিন্নে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

তবে বিএসসিসিএল এর একটি অসমর্থিত সূত্রে এবং মাঠপর্যায়ে থাকা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিমিউই-৫ থেকে গত ৯ আগস্ট পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়ার ফলে রিপিটারে বিদ্যুৎ যাচ্ছিল না। এজন্য ব্যান্ডউইথ পেতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা সমস্যা হওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে ৫০ কোটি টাকার উপরে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এটি টাকার অংকে বের করা অসম্ভব দাবি করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অব বাংলাদেশ (আইসিপি) এর চেয়ারম্যান আমিনুল হাকিম বলেন, বিএসসিসিএল এর সাথে চুক্তির কোথাও পেনাল্টি বিষয়ে উল্লেখ না থাকায় গ্রাহক পর্যায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হলেও এ ব্যাপারে কোন ক্লেইম করা যাচ্ছেনা।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকৌঃ মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিএসসিসিএল’র নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এটি দেশের ভাবমূর্তিরও একটি বড় ক্ষতি। তবে ধীরগতি থাকলেও ক্যাবল কাটা পড়ার ঘটনায় ইন্টারনেট সার্ভিস একেবারে বন্ধ ছিলনা। নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব অবহেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমুদ্র থেকে ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত ৬ কিঃ মিঃ জায়গায় আগে থেকে এমন কোন হুমকি ছিলনা। তারপরেও ধাপে ধাপে এটি প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখা হয়। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদেরকে না জানিয়ে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এরজন্য আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৭৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি আসে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (সিমিউই-৫) থেকে।

উল্লেখ্য, বিএসসিসিএলের আওতাধীন দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলটির (সিমিউই-৫) বীচ-ম্যানহোল থেকে ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত ল্যান্ড ফাইবার ক্যাবল ও তৎসংলগ্ন পাওয়ার ক্যাবল কুয়াকাটার আলীপুর বাজারের কাছে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত খননযন্ত্র দ্বারা আকস্মিকভাবে কাটা পড়ে। এতে সিমিউই-৫ সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে চালু ট্রাফিক ১৩ ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন ছিল।

Sharing is caring!