কুষ্টিয়ায় ২৬ সেতুর দরপত্র সম্পন্ন: দরপত্র বিক্রি ৪৩ লক্ষ টাকায়

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০

শোভন আহাম্মেদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥

২লাখ ৫০হাজার টাকায় বিক্রি দরপত্র ৪৩ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বাতিল হওয়া গত বছরের ২৬টি সেতুর দরপত্র অবশেষে সম্পন্ন হয়েছে। এক বছর পর গতকাল বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হয়। এবার দরপত্রে অংশ নেন সাধারণ ঠিকাদারেরা।

গত বছরের জুনে এই ২৬টি সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যোগসাজশে গোপনে এ দরপত্র কিনে নিয়েছিলেন। এতে বঞ্চিত হয় সাধারণ ঠিকাদারেরা। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি সত্যতা পেলে বাতিল করা হয় দরপত্র। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পায়। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ অফিস সূত্র জানিয়েছে, গত বছর জুন মাসে মিরপুর উপজেলায় গ্রামীণ সড়কে ২৬টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৬টি সেতুর বিপরীতে মাত্র ৭৮টি দরপত্র বিক্রি হয়। সে সময় দরপত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তা বাতিল করে দেয় মন্ত্রণালয় থেকে আসা তদন্ত দল। এরপর এক বছর দরপত্র প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। কয়েক মাস আগে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এবার সাধারণ ঠিকাদারেরা দরপত্র কেনার সুযোগ পান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলা ও উপজেলা অফিস মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লাখ টাকার দরপত্র বিক্রি হয়। এ টাকা সরকারের রাজস্বে জমা হয়। আর গত বছর সিন্ডিকেটের কারণে মাত্র আড়াই লাখ টাকার দরপত্র বিক্রি হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ২৬টি সেতু নির্মাণের লটারি গতকাল বিকেল ৪টায় শুরু হয়। দরপত্রে অংশ নেওয়া শতাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে এ বছর ঠিকাদার বেছে নেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও জেলা প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত থেকে লটারি তদারকি করেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

দরপত্রে অংশ নেওয়া এক ঠিকাদার বলেন, ‘এ বছর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। শত শত ঠিকাদার অংশ নিয়েছে। সবার সামনে লটারি হয়েছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।’ উপজেলার আরেক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘গত বছর উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন ও দলীয় নেতারা মিলে ভাগ বাঁটোয়ারা করে নেন। এর ফলে সাধারণ ঠিকাদারেরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। এমন লটারি অতীতে কোনো সময় হয়নি। এতে কাজের মানও ভালো হবে। কারণ আগেভাগে কাউকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বলেন, ‘শতাধিক ঠিকাদারের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। বলতে পারি শতভাগ ফেয়ার হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, লটারি যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। গত বছর অনিয়ম হওয়ায় এবার প্রকাশ্যে লটারির আয়োজন করা হয়। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। প্রকৃত ঠিকাদারেরা কাজ পেয়েছেন। এ বছর এ কাজ থেকে সরকার অনেক টাকা রাজস্ব পেয়েছে।

Sharing is caring!